চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে সমুদ্র উপকূলবর্তী বরগুনা জেলায়। গতকাল মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জয়নব বিবি (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ জন।
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে।
বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে বেতাগীতে চারজন, বামনায় এক, আমতলীতে এক ও পাথরঘাটায় সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১০৬ জন। এ বছর জেলায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৮১ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৫৭৫ জন। বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন আরো ৩৮ জন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭।
চিকিৎসকরা বলছেন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ চলতি বছর বরগুনায় বেশি দেখা গেছে। এরই মধ্যে উপকূলীয় এ জেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, অপর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট পরিস্থিতিকে আরো বেশি বিপদাপন্ন করে তুলছে। এ কারণে ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। গুরুতর রোগীদের নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে বরিশাল বা ঢাকার হাসপাতালগুলোয়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘গত কিছুদিন আগে বরগুনায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিল। এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। এতে চলতি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তবে সেপ্টেম্বর শেষ হলে হয়তো পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।’










