রাজশাহীর
গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক কাইয়ুম আলী। দু’বছর আগে ঋণ নিতে জনতা ব্যাংকে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলেছিলেন। লোনের টাকা
উত্তোলনের পর হিসাবটিতে কোনো লেনদেন করেননি, সঞ্চয়ও রাখেননি সেই হিসাবটিতে। প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে
নেন মোবাইল
ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে।
শুধু
কাইয়ুম আলী নন, জেলার ১২ হাজারের বেশি কৃষকের ব্যাংক হিসাবই রয়েছে অচল। জানা যায়, কেবল গোদাগাড়ী উপজেলাতেই ৬ হাজার ২ জন
কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট অচল রয়েছে।
রাজশাহী
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০১৯-২০ সেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় ১২ হাজার ৩০ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব
অচল রয়েছে। এর পরিমাণ গোদাগাড়ী ও মোহনপুরে সবচেয়ে। মোহনপুরে ৩ হাজার ৮৮৩ জন, পবায় ৪৫১, তানোরে ২০৬, দূর্গাপুরে ৮৯১ এবং চারঘাটের ৫৫১ জন
কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট অসচল।
মোহনপুরের
কৃষি কর্মকর্তা রহিমা বেগম জানান, শুরুতে
জনপ্রিয়তা পেলেও কৃষকের অধিকাংশ ব্যাংক হিসাবে দীর্ঘদিন কোনো সঞ্চয় ও লেনদেন হয়
না। কৃষকেরা সরকারি সহায়তা নেওয়ার পর আর ওই হিসাবে লেনদেন করেন না। পাশাপাশি
মোবাইল ব্যাংকিং সহজলভ্য হওয়ায় এর ওপর প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল
আউয়াল বলেন, বিভিন্ন
সরকারি প্রণোদনা
ভাতা
যখন দেওয়া হয় তখন ব্যাংক হিসাবগুলো সচল হয়। এর বাইরে আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে
কৃষকের সঞ্চয়ের মতো অর্থ থাকে না।
প্রসঙ্গত, সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ভর্তুকি কৃষকের
হাতে সহজে পৌঁছে দিতে এবং তাদের সাধ্যমতো সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০
সালের ১৭ জানুয়ারি কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় হিসাব খোলার সুযোগ করে দেয়। রাষ্ট্রায়ত্ত
চারটি বাণিজ্যিক ও তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংকের যেকোনো শাখাতে ব্যাংক হিসাব খুলতে
পারেন কৃষকরা।










