বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের উদালবনিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধানের পরীক্ষামূলক চাষ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ জাতের ধানে রোগবালাই কম। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চফলনশীল একটি জাত। অন্য যেকোনো জিঙ্ক জাতের চেয়ে উৎপাদন বেশি ও কম সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ জন্য উচ্চফলনশীল ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’-এর জীবনকাল ১৪৮ দিন, ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, পাতার রং সবুজ, পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০১ সেন্টিমিটার (মাঝারি)। এ জাতের ধানে রোগবালাই কম, পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন, জিঙ্কের পরিমাণ বেশি, কম সময়ে উচ্চফলনশীল জাত। সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের উদালবনিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধানের পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উদালবনিয়া হেডম্যান বিলে ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষ করছেন কৃষক উমেচিং মারমা। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, কৃষি বিভাগের নির্দেশনা মেনে ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষ করছি। কৃষি বিভাগ সার, বীজ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। এ ধান চাষ করে ও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছি, অন্যান্য ধানের তুলনায় এ ধানে রোগবালাই কম, সারও কম লাগে। ধান গাছের উচ্চতা মাঝারি। সাড়ে তিন মাসে ধান পাকতে শুরু করেছে। কম খরচে ভালো ফলন, ধানের আকারও চিকন। ধানে মৃদু সুঘ্রাণ রয়েছে। এ ধান চাষ করে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। কারণ উচ্চফলনশীল ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষে স্থানীয় কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের আগ্রহ দেখে এ ধানের বীজ তৈরি করার কথাও চিন্তা করছি। আশা করছি, বঙ্গবন্ধু ধান চাষে একটা বিপ্লব ঘটবে।

রাজবিলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুলুমং মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, উদালবনিয়ায় দুটি প্লট মিলে প্রায় এক হেক্টর জমিতে ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষ হচ্ছে। ৮-১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা হবে। দুই প্লট মিলে সাত-আট টন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত জিঙ্কের অভাবে মানবদেহে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এর প্রভাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা ধানের এ জাত উদ্ভাবন করেন বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৭ টন। উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে, যা অন্যান্য জাতের তুলনায় উচ্চফলনশীল।

 চাল মাঝারি, চিকন ও সাদা। জিঙ্কের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম। চালে অ্যামাইলোজ ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রোটিন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তিনি জানান, উদালবনিয়া এলাকার কৃষকরা ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জিঙ্কসমৃদ্ধ এ ধান মানবদেহে জিঙ্কের অভাব পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।