টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। নদীর পানি কিছুটা কমলেও বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকায় ঢুকছে বন্যার পানি। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দুর্গতদের কেউ কেউ পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু ভবনের ছাদে।
ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের তনিমা সুলতানা তার পরিবার ও গরু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী শাহজাহান মজুমদারের দোতলা ভবনের ছাদে। তিনি বলেন, বাড়িতে পানি ঢুকে সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। নিচে থাকলে গরুগুলো নিয়ে বিপদে পড়তে হতো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তনিমাসহ অন্তত ১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে। মোতাহার হোসেন নামে একজন জানান, এটি তার মামার বাড়ি। বাড়ির মালিক বাইরে থাকলেও ছাদ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

একই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আনন্দপুরের বাসিন্দা আলা উদ্দিনের। তিনি জানান, গেল বন্যাতেও একইভাবে ছাদে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ঘরবাড়ি বসবাসের উপযোগী না হওয়ায় জিনিসপত্র গুছিয়ে এবারো ছাদে উঠে এসেছেন তিনি।
ফেনী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলার আংশিক অংশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৬ হাজার ৮২৬ জন। প্রতিটি কেন্দ্রে ত্রাণ ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
এদিকে, বন্যার পানি ফুলগাজী ও পরশুরাম থেকে ধীরে ধীরে সরে গেলেও তা গড়িয়ে ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে। কাজীরবাগ, মোটবী ও ফাজিলপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। ফেনী–ছাগলনাইয়া সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মানুষ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে
ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তাই সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর, আমিরাবাদ ও চর দরবেশ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী তিনটি সড়ক ধসে পড়েছে। এতে এলাকাগুলোর সঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বেশ কিছু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।

সোনাগাজী উপজেলায় ভেঙে গিয়েছে তিনটি সড়ক
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বড় ফেনী ও ছোট ফেনী নদী থেকে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
চর দরবেশের বাসিন্দা শফি উল্লাহ জানান, বাঁশপাড়া, বদরপুর ও মিয়াজীঘাট সড়ক পুরোপুরি ধসে গেছে।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।










