হিমেল হাওয়ার দাপটে কাঁপছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে এই জেলায় সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জে অবস্থিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকদের। শহর ও গ্রাম– উভয় জনপদেই শীতের তীব্রতায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের দাপট কমছে না। গতকাল মধ্যরাত থেকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় জেলার বিভিন্ন এলাকা। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় যানবাহনগুলো আজ সকালে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করে। শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি আবহাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সকাল সকাল কুয়াশা ভেদ করে ভ্যান নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জ এলাকায় আসেন সদর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রির সহকারী আব্বাস আলী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইজ খুপ জাড় লাগজে। মনডা বলচে, না খ্যাতার ভিতরতি উটি, বাইরি বের হই। গরিব মানুষ, আমাগের খাইটে খাতি হয়, তাই কষ্ট কইরে বের হইচি।’

একই কথা জানালেন চা-দোকানি আকাশ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আনা বচরের চাইতি এবেড্ডা শীত বেশি। ঠান্ডায় আমরা পানিতি লাবতি পারচি নে। মাচ তুলতি পারচি নে। কুয়াশার মদি কিচুই দেকা যাচ্চে না। পুকুরতি মাচ বাজারে আনতি গিয়ে থরথর কইরে কাঁপচি।’

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ সকালে রেকর্ড করা ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।