কভিড-১৯ সংক্রমণ শুরু হলে টানা ৬৭ দিন বন্ধ ছিল রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়লেও রেলপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল। এ সময়ে রেলপথে সিংহভাগ পণ্যের পরিবহন কমলেও খাদ্যশস্যের পরিবহন ছিল তুলনামূলক বেশি। সর্বশেষ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়েও বেশি খাদ্যশস্য পরিবহন করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ।

সারা দেশে মূলত ১৩টি ক্যাটাগরিতে পণ্য পরিবহন করে রেলওয়ে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে সর্বশেষ অর্থবছরে রেলওয়ের মোট পণ্য পরিবহন কমেছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৫ টন। করোনাকালীন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা, রফতানি কমে যাওয়া, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহন কম থাকায় রেলপথে পণ্য পরিবহন কমে আসে। তবে করোনাকালে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগের কারণে খাদ্যশস্য পরিবহন সর্বশেষ অর্থবছরে বেড়েছে।

রেলের পরিবহন বিভাগ বলছে, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে দেশীয় পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য পরিবহন চালু রাখে রেলওয়ে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও করোনাকালীন সময়ে সারা দেশে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে যায়। রেলের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বন্ধ থাকা ট্রেনের ইঞ্জিনগুলো দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ খাদ্যশস্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করে। এ কারণে দেশব্যাপী খাদ্য পরিবহন আগের তুলনায় বেড়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ হাজার ৯৪২ ওয়াগনে ৪৮ হাজার ২৭ টন খাদ্যশস্য পরিবহন করেছিল। তবে গেল অর্থবছরে ৩ হাজার ৪১৮ ওয়াগনে মোট ৫৫ হাজার ৮০২ টন খাদ্যশস্য পরিবহন করে। এ খাতে রেলওয়ে আয় করেছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৮১ টাকা। যদিও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ে আয় করেছিল ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৬ টাকা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালসহ সর্বশেষ অর্থবছরে পরিবহন করা পণ্যের মধ্যে পাথর পরিবহন ২৮ হাজার ১৭৫ টন কমে পরিবহন হয়েছে ৩০ হাজার ৫০৫ টন, সার ২ হাজার ৪৫৯ টন কমে পরিবহন হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৬ টন, ফার্নেস অয়েল ৮৩ হাজার ৮১৩ কমে পরিবহন হয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৩৬০ টন, তৈরি পোশাক পরিবহন ১০ হাজার ৮৫৬ টন কমে হয়েছে ৯ হাজার ৭২১ টন, কনটেইনারে পণ্য পরিবহন ৬ হাজার ৬৩৫ টন কমে হয়েছে ৭ লাখ ৫৮ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫৮ টন চা পরিবহন হলেও সর্বশেষ অর্থবছরে কোনো চা পরিবহন করেনি রেলওয়ে। এছাড়া সর্বশেষ অর্থবছরে রেলপথে চিনি, আখ, রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের পণ্য পরিবহন হয়নি। এ সময়ে সামরিক বাহিনীর পণ্য পরিবহনও ৮ হাজার ৮৩ টন কমে হয়েছে মাত্র ৭৭৪ টন।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী বণিক বার্তাকে বলেন, করোনাকালীন সংকটের কথা বিবেচনায় আনলে সর্বশেষ অর্থবছরে পণ্য পরিবহন খুব একটা খারাপ হয়নি। তবে খাদ্যশস্য পরিবহনের পরিমাণ সবচেয়ে ভালো ছিল।