বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪২ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৭ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন বিদায়ী মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯৬ টাকা। চলতি বাজেটে ৩৮৯ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা উন্নয়নকাজে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব আয়ে ৬৭ কোটি ও সরকারি বিশেষ বরাদ্দ ৩৬ কোটি ও ২৪৬ কোটি টাকা সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। 

গতকাল বিকাল ৪টায় বরিশাল ক্লাবে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এ বাজেট ঘোষণা করেন। এ নিয়ে এটি তার পঞ্চম ও শেষ বাজেট। এটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২১তম বাজেট।

মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের পাশাপাশি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৭১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৮১ টাকার সংশোধিত বাজেট দিয়েছেন। বিগত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৪১৮ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭২ টাকা।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৪৮ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন। ২০০২ সালে বিসিসি প্রতিষ্ঠার পর এত বড় অংকের বাজেট এবং ঘোষণায় জাঁকজমক আয়োজন এর আগে কখনো হয়নি। 

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিদায়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ আগের বাজেটগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘তার মেয়াদের দুই বছর ছিল করোনাকালীন সংকট। যে কারণে তিনি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেননি।’

উন্নয়ন বরাদ্দ না পাওয়ায় বছর শেষে সংশোধিত আকার হয় মাত্র ৯৪ কোটি ৭২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। পরের তিনটি বাজেট প্রায় একই রকম। ২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা দেন ২০২০ সালে ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে ফেসবুকে পেজে। যার পরিমাণ ছিল ৪২৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৫ টাকা। বছর শেষে জানানো হয়, বিশেষ অনুদান এবং সরকারি ও বিদেশী সাহায্যপুষ্ট ২৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ১৭ কোটি ৯১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। সাদিক আবদুল্লাহর পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় অংকের সংশোধিত বাজেট ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে। ৪১৫ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৬ টাকার প্রস্তাবের বিপরীতে সংশোধিত বাজেট হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৫৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০ টাকা।

বাজেট ঘোষণায় মেয়র বাজেটে আয়ের উৎস হিসেবে রাজস্ব খাত থেকে ১২৫ কোটি টাকা, উন্নয়ন খাতে সরকারি অনুদান ৩৬ দশমিক ৫ কোটি, রাজস্ব খাতে সরকারি অনুদান ১১ দশমিক ৪৫ কোটি, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প ২৪৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে আহরিত ১২৫ কোটি যা মোট বাজেটের প্রায় ৪ ভাগের ১ ভাগ। বাকিটা বিভিন্ন প্রকল্প ও সরকারি এবং বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যয়ের খাতে রাস্তা, ড্রেন, সেতু ও অবকাঠামো নির্মাণে ১১৯ কোটি টাকা, বেতন ভাতায় ৫৩ দশমিক ১৩ কোটি, পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজে ৯৭ দশমিক ৩৯ কোটি, সামাজিক সুরক্ষায় ৮ দশমিক ২৯ কোটি, খাল ও পুকুর সংরক্ষণে ২৮ কোটি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প হিসেবে ২৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণে ১১ কোটি টাকা, টিবির পুকুর সৌন্দর্যবর্ধনে ১০ কোটি, ওয়ার্ডভিত্তিক শিশুপার্ক ও কালচারাল সেন্টার নির্মাণে ১০ কোটি, বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামের বাকি অংশ নির্মাণে ৩০ কোটি, রূপাতলী ও বেলতলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পুনঃস্থাপন প্রকল্পে ৫০ কোটি, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য উন্নয়ন প্রকল্পে ৬০ কোটি, খালপাড় সংরক্ষণ প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য যোগদানকৃত সচিব মাসুমা আক্তার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ, প্যানেল মেয়র গাজী নইমুল হোসেন লিটু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে জাহাঙ্গীর, কাউন্সিলর, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা।