রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারিতে জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা যথাযথভাবে তুলে না ধরার অভিযোগ তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপস্থিত নেতারা। তা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা, হট্টগোল হয় এবং এনসিপি নেতারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। হট্টগোলের এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রটি শেষ হওয়ার পরপরই দর্শক সারিতে থাকা অনেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, তথ্যচিত্রে আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বাদ পড়েছে এবং অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ সেখানে অনুপস্থিত।
বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে প্রচারিত তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারিতে জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। ভিডিওতে দেখা যায়, এ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ‘আমি সকলকে শান্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’ একই সঙ্গে তথ্যচিত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের কথাও বলেন তিনি।
দর্শক সারি থেকে তখনো বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হচ্ছিল। তখন সবাইকে শান্ত হতে মন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করতে শোনা যায়। এতে কাজ না হওয়ায় মাইকের সামনে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা কী নিজেদের জাহির করার জন্য আসছেন?’
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাইকের সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্য থেকে যারা বক্তব্য দিতে চান, দয়া করে আপনারা এখানে এসে কথা বলুন।...আপনাদের বক্তব্য...আপনারা বলুন; আমরা শুনব। কিন্তু শান্তশিষ্টভাবে বসুন দয়া করে।’
কথা বলার মাঝে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে কয়েকবার ডাকেন। কিছুক্ষণ পর মঞ্চে আসেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই যোদ্ধাদের একজন হয়ে এবং আমার দলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এ অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করি; কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পক্ষে এবং আমার যে সহযোদ্ধারা আছেন, তাদের জন্য একটি সুন্দরের আকাঙ্ক্ষায় আমার পক্ষে এ অনুষ্ঠানে অবস্থান করা সম্ভবপর নয়।’
আখতার আরো বলেন, ‘আমি আজকের এ অনুষ্ঠানের রাষ্ট্রপতি, তাকে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। তিনি বাংলাদেশের পক্ষে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, সেটাকে আমরা ধারণ করি। তিনি একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা, একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধা, তার প্রতি সম্মান ব্যক্ত করছি। সেই সম্মান রেখে আমি নীরবে এখান থেকে প্রস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম।’
অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ব্যথিত হওয়ার কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘ভুলত্রুটি মানুষের হতেই পারে। সবাই মিলে সেসব ভুল সংশোধন করতে হবে। তবে জাতীয় অনুষ্ঠানে বিদেশীদের সামনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত।’
এ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এভাবে যে বিদেশের সামনে, বিদেশী অতিথিদের সামনে যে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে। এবং এ ঘটনায় সবচেয়ে খুশি হবেন যিনি পাশের দেশে বসে আছেন, তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন।’
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদের ছবি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, অথচ আবু সাঈদ জুলাই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি ও প্রতীক। তার ছবি ছাড়া ওই আন্দোলনের কোনো তথ্যচিত্র পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তথ্যচিত্রে ছিল না বলে উল্লেখ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।










