চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের শিলাচর এলাকায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে প্রমত্তা পদ্মার স্রোতে কয়েক দিনের ভাঙনে বহু পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিলারচর ও বলাশিয়া গ্রামের গুচ্ছগ্রাম। শিলারচর গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার নদীভাঙন আতঙ্কের মধ্যেই দিনযাপন করছে। আবার এরই মধ্যে অনেকের বসতভিটা বিলীন হয়েছে নদীতে।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব দিকে মেঘনা নদী আর পশ্চিমে প্রমত্তা পদ্মা। পদ্মা-মেঘনার ভাঙনে প্রতি বছরই রাজরাজেশ্বরের কোনো না কোনো গ্রাম নদীতে বিলীন হচ্ছে। ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ডের মাঝখান দিয়েও পদ্মা আঘাত হেনে শিলারচর ও চিরারচর গ্রামকে আলাদা করে দিয়েছে। এবারো ভাঙনের মুখে এ অঞ্চল।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী আহমদ বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডই নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। নদীর স্রোত এবং অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করার কারণে আমরা ভাঙনের হুমকিতে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে পুরো এলাকা তলিয়ে যাবে।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারি বলেন, আমাদের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের শিলাচর গ্রামের অনেক ঘরবাড়ি এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। কয়েকদিনে গণকবরস্থান, মসজিদ, একটি ঈদগাহ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন হুমকিতে বলাশিয়া গুচ্ছগ্রামও। সেখানে শতশত পরিবারের বসবাস। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ বলেন, আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি আমাকে চেয়ারম্যান লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করেছেন। স্থানটি তিনটি নদীর মোহনা এবং ভাঙন প্রতিরোধ টেকনিক্যাল বিষয় হওয়ায় আমি বেশি কিছু বলতে পারছি না। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি কমিটি পদ্মার ভাঙনসহ তিন নদীর মোহনা রক্ষায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্টাডি করেছেন। তাদের রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। এখন তাদের স্টাডির বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার জন্য আমাদের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং দ্রুত সার্ভে করতে আসবে।

তিনি আরো বলেন, কারিগরি কমিটিসহ ভাঙন প্রতিরোধ নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করে এবং সঙ্গে থেকে আমি বুঝতে পেরেছি, ইচ্ছে করলেই হঠাৎ পদ্মার ওই অংশের ভাঙন প্রতিরোধ করা যাবে না। কারণ ওখানে প্রতিরোধ করলে তার প্রভাব চাঁদপুর শহরের মোলহেডে এসে পড়বে। এছাড়া এর আগেই চাঁদপুর শহরের বিপরীতের চরগুলো অপসারণ করতে হবে।

স্থানীয়রা জানায়, ২০২০ সালেও বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়ে শিলারচর এলাকাটি। তখন ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি তিনতলা পাকা নতুন ভবন পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে বসতবাড়ি হারায় শতাধিক পরিবার। বর্তমানে তিন শতাধিক পরিবার এ এলাকায় বসবাস করছে।