রান্নার অন্যতম উপাদান জিরা। মসলাজাতীয় এ পণ্যের চাহিদার পুরোটাই আমদানি হয়। তবে আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবার নওগাঁর রানীনগরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন কৃষি উদ্যোক্তা জহুরুল ইসলাম বাদল। নওগাঁ ছাড়াও সারা দেশে জিরা চাষ করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় এ মসলার দামও হাতের নাগালে চলে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি রানীনগর উপজেলার শিয়ালা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জহুরুলের সফলতা দেখতে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে শত শত কৃষক আসছেন। যারা আসছেন তাদের কেউ সতেজ জিরার সুগন্ধ নিচ্ছেন কেউব আবদার করছেন জিরা বীজের।
জহুরুলের জিরা খেতে দাঁড়িয়ে কথা হয় রানীনগর উপজেলা সদর থেকে আসা কৃষি উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে ডিপ্লোমা করার পর সরকারি চাকরির পেছনে ছুটেছি। তবে ব্যর্থ হওয়ার পর গ্রামে ফিরে কৃষি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জেলার মাঠ ঘুরে সফল কৃষকের ফসল উৎপাদন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করছি। এরই একটি অংশ ছিল জহুরুলের জিরা চাষের কলাকৌশল জানা। শুরু থেকেই তার জিরা আবাদ আমি পর্যবেক্ষণ করে আসছি। এখান থেকেই বীজ সংগ্রহ করে আমিও বাণিজ্যিকভাবে জিরা আবাদ করব। এটা খুবই অল্প খরচে চাষ করা সম্ভব এবং অতি লাভজনক একটি ফসল।’
শিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছের, শফিকুল ইসলাম ও রিতা বেগম বলেন, ‘জহুরুলের জমিতে জিরার বীজ বপন করার পর আমরা তাকে নিয়ে অনেক হাসিঠাট্টা করেছি। এখানকার মাটিতে জিরা হবে তা আমরা কেউই বিশ্বাস করিনি। জিরা চাষের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শত শত মানুষ জিরা দেখতে আসছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে পুরো গ্রামেই জিরার আবাদ ছড়িয়ে দেয়া যাবে।’
কৃষি উদ্যোক্তা জহুরুল ইসলাম বাদল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিত্যনতুন ফসল উৎপাদন করতে এক ধরনের আনন্দ লাগে। এর আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে সফল হয়েছি। তবে বাজারে দাম বেশি হওয়ায় জিরা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইউটিউব থেকে জিরা চাষের পদ্ধতি শিখেছি। পরে অনলাইনের মাধ্যমে জিরার বীজ সংগ্রহ করেছি। এরপর ৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক জিরার বীজ বপন করেছি। জিরা চাষের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। কিছুদিনের মধ্যেই এসব জিরা ঘরে তুলতে পারব। ১২-১৫ কেজি জিরা উৎপাদিত হবে বলে আমি আশাবাদী। যেখানে সব খরচ বাদে অন্তত ১৩ হাজার টাকা লাভ হবে।’
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বছর জেলায় দুজন কৃষক জিরা চাষ করেছেন। বিষয়টিকে আমরাও ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। সাধারণ ধনিয়ার মতোই স্বল্প খরচে জিরা চাষ সম্ভব। এটি চাষাবাদে খুব বেশি কারিগরি জ্ঞান বা দক্ষতার প্রয়োজন নেই। এবার জেলায় যে পরিমাণ জিরা উৎপাদিত হবে তার বীজ সংগ্রহ করে আগামী বছর এটি সম্প্রসারিত করা হবে। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ আগ্রহী চাষীদের সহযোগিতা করবে। অর্থকরী এ ফসল বাণিজ্যিকভাবে দেশের মাটিতে চাষ করা গেলে দাম হাতের নাগালে চলে আসবে।’










