চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অমানুষিক নির্যাতনের পর এক সপ্তাহ আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লা আল নাঈম (৯)। সে উপজেলার আবুর হাট ভূইয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল মোতালেবের ছেলে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ইমামপুর গ্রামে দারুস সালাম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। হেফজখানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে ওই শিক্ষার্থীকে বেদম পিটিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা জানাজানি হলে নির্যাতনকারী শিক্ষক আমজাদ হোসেন পালিয়ে যান।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী আব্দুল্লা আল নাঈমের মা বিবি আয়শা জানান, নয় মাস আগে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ইমামপুর গ্রামে দারুস সালাম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে ছেলেকে ভর্তি করান তিনি। তবে কানে সমস্যা থাকায় মাঝে মাঝে নাঈমকে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি নিয়ে চিকিৎসা করাতেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ কানে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে বাড়ি আসতে শিক্ষকের কাছে ছুটি চায় নাঈম। কিন্তু ছুটি না পেয়ে ব্যথা নিয়ে পরদিন সকালে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি আসার চেষ্টা করে সে। পালানোর বিষয়টি টের পেয়ে হেফজ শাখার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক আমজাদ হোসেন কয়েকজন শিক্ষার্থী পাঠিয়ে রাস্তা থেকে নাঈমকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মাদ্রসার ভেতর নিয়ে বেত দিয়ে দফায় দফায় মেরে রক্তাক্ত করে ফেলেন। মারধরের পর নাঈম অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এক সপ্তাহ মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে মাদ্রাসায় ছেলেকে দেখতে গেলে শিক্ষকদের অস্বাভাবিক আচারণ দেখে নির্যাতনের বিষয়টি টের পান নাঈমের মা। পরে ছেলের অবস্থা দেখে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।  

জানতে চাইলে এ বিষয়ে দারুস সালাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, ‘হেফজ শাখার এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার বিষয়টি জেনে আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু আঘাত এত গুরুত্ব ছিল তা আমরা বুঝতে পারিনি। নির্যাতনকারী ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, ‘দারুস সালাম মাদ্রাসায়  শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’