বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির জেলার দুর্গম এলাকায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামের একটি সংগঠনের হত্যা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ। গতকাল সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেয়া স্মারকলিপিতে নাগরিক সমাজ এ দাবি তুলে ধরে।

এর আগে সম্প্রতি রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাইজামপাড়ায় তিন ব্যক্তি হত্যা, দুই শিশু আহত ও শত পরিবারের ঘরছাড়া হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম (টিএসএফ) ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের (বিটিকেএস) আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সাত দফা দাবি হলো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল এমন সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও তত্পরতা বন্ধ করতে হবে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, আহতদের সুচিকিৎসায় পর্যাপ্ত সহযোগিতা, নিহত ও আহতদের পরিবারে ক্ষতিপূরণ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঘটনার শিকার পাড়াবাসীকে ফিরিয়ে এনে বসবাস করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সত্যহা পানজি ত্রিপুরা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর, বিটিকেএস বান্দরবানের সাবেক সভাপতি ফিলিপ ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের সাধারণ সম্পাদক রিপন তঞ্চঙ্গ্যা, উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নের সাইজামপাড়ায় বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে হত্যা করে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্যরা। এ ঘটনায় দুই শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি কেএনএফের প্রাণনাশের হুমকিতে পালিয়েছে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় পাঁচ পাড়ার ৯২ পরিবার।

এদিকে তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ডজনখানেক গ্রাামের হতদরিদ্র শতাধিক জুমচাষী পরিবারকে উচ্ছেদ করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কেএনএফ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক সাইজাম পাড়ার হত্যাকাণ্ডের দায় প্রকাশ্য স্বীকার করলেও এবং এরপর ঘোষণা দিয়ে তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর একের পর এক গ্রাম উচ্ছেদ করার পরও সরকারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগ ও রহস্যজনকও বটে।

এ অবস্থায় অচিরেই সন্ত্রাসী কেএনএফের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ভীতসন্ত্রস্ত গ্রামবাসীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানপূর্বক নিজ নিজ গ্রামে পুনর্বাসন, সাইজাম পাড়ায় নিহত ও আহত তঞ্চঙ্গ্যা পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য জনসংহতি সমিতি জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে কেএনএফ নামক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদানে জড়িত, যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।