১৩ বছর আগে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির লিমন হোসেন ৯ জনের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে এসে তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন। সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও মেজর রাশেদসহ ৯ জনের নাম রয়েছে এই অভিযোগে।

অভিযোগে লিমন উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা লিমনকে গুলি করে। তখন র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, লিমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ জমাদ্দারের সহযোগী। মোর্শেদকে গ্রেফতারে অভিযান চালানোর সময় কলেজছাত্র লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) চিকিৎসা চলাকালে লিমনের বাঁ পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলতে হয়। ওই ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল ঝালকাঠির আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। সে মামলার তদন্তই এখনো শেষ হয়নি।

সে সময় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর উপ-সহকারী পরিচালক-ডিএডি লুৎফর রহমান, করপোরাল মাজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. আব্দুল আজিজ, নায়েক মুক্তাদির হোসেন, সৈনিক প্রহ্লাদ চন্দ এবং কার্তিক কুমার বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা আরো ছয় র‌্যাব সদস্য ওই মামলার আসামি।

র‌্যাবের ভাষ্য ছিল, অভিযান চালানোর সময় কিশোর লিমন গুলিবিদ্ধ হন। তবে লিমন বলছেন, র‌্যাবের সদস্যরা তার হাঁটুতে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছিলেন।

অভিযোগ দাখিলের পর লিমন সাংবাদিকদের বলেন, ১৩ বছর ধরে আমি ও আমার পরিবার হয়রানির শিকার হয়ে আসছি। একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করলাম। একটি মামলায় এ যাবত পাঁচবার নারাজি দিয়েছি এবং দুই/তিনবার রিভিউ আবেদন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাইনি। আমি ও আমার পরিবার ২০১১ সালের পর থেকেই ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কর্তৃক বারবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। তাই আমি ও আমার পরিবারের সবার নিরাপত্তা চাই রাষ্ট্রের কাছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান লিমন। র‌্যাবকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে বিলুপ্তির দাবি জানাচ্ছি। র‌্যাবের কতিপয় সদস্য আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে।