প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় আসন পাঁচটি। বিগত নির্বাচনগুলোতে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর কারণে নারায়ণগঞ্জ ছিল আলাদা করে আলোচনার বিষয়। তবে এবারের পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন। আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির সবচেয়ে বগ চ্যালেঞ্জ স্বতন্ত্র। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বপ্ন বুনছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলাটির বড় সমস্যা ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব। এ ছাড়া জেলাটির প্রধান সড়কগুলো দিনের বেশির ভাগ সময়ই যানজটে স্থবির থাকে। পাশাপাশি জেলার নদী, খাল ও বায়ুদূষণ অন্যতম বড় সমস্যা। এসব বিষয় মাথায় রেখে পাঁচ আসনের প্রার্থীরা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নগরী ও সুস্থ পরিবেশের আশ্বাসও দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
নারায়ণগঞ্জ–১
রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ–১ আসন। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে লড়াই হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মোল্লার। যদিও এত দিন হিসাবটা ছিল ভিন্ন। বিএনপি প্রার্থীর পরই শক্ত অবস্থানে ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন। তিনি বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সম্প্রতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আসনটিতে বিএনপির অবস্থান আরো শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থী জনপ্রিয় হলেও জামায়াতের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে জামায়াত প্রার্থী তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলা ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই বিজয়ী হব—এটা বুঝতে পেরেই বিএনপির দলীয় প্রার্থী আমাদের প্রচারণা কার্যক্রমে সর্বাত্মক বাধা দিচ্ছেন।’
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীই মনে করি না। তাহলে তাদের কাজে বাধা দেব কেন? তারা আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর জবাব জনগণ ভোটের মাধ্যমে দেবে।’
আসনটির অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন এবং ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. রোহান আফজাল। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৮৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
নারায়ণগঞ্জ–২
আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ–২ আসন। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের মধ্যে লড়াই জমে উঠবে বলে মনে করছেন ভোটারেরা। আতাউর রহমান লড়ছেন কলস প্রতীক নিয়ে। ভোটারেরা বলেন, দুজনই আড়াইহাজারে জনপ্রিয় নেতা। শেষ হাসি কে হাসে, সেটা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে তাদের হার–জিতের ব্যবধান খুব কম হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভোটারেরা জানান, নজরুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী হলেও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আড়াইহাজারের ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, আঙ্গুরই হতে পারেন আজাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা।
ভোটারেরা বলছেন, আজাদের বড় শক্তি তার ক্লিন ইমেজ। দুইবারের সংসদ সদস্য হলেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। যে কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাইরেও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পাবেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর শক্তি হলো দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়েও মাঠে সক্রিয় থাকা, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিতি তাকে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।
আসনটির অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম। নারায়ণগঞ্জ–২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮০১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
নারায়নগঞ্জ ৩
নারায়ণগঞ্জ–৩ আসন গঠিত হয়েছে সোনারগাঁও ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে। অন্যান্য আসনের তুলনায় এখানে ভোটের লড়াই তুলনামূলকভাবে জমে উঠেছে। মূলত ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নির্বাচনী আমেজ এখানে বেশি।
বিএনপি প্রার্থীর বিপরীতে একই দলের প্রভাবশালী একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামী ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা মাঠে থাকায় শক্ত লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ–৩ আসনে সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলের বিদ্রোহী ও জোটের মিত্ররা। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। সাবেক এ উপজেলা চেয়ারম্যান বিগত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। সোনারগাঁয়ে তার অবস্থান বেশ শক্ত হলেও এবার সিদ্ধিরগঞ্জ অংশ যুক্ত হওয়ায় ভোট ভাগ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে মান্নানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জকে গিয়াস উদ্দিনের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার নিজস্ব কর্মী ও সমর্থকেরা মাঠে রয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি দলীয় প্রার্থী মান্নানকে কঠোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপির তিন প্রার্থী হওয়ার সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। আসনের ভোটের সমীকরণে জামায়াত বড় চমক দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. শাহজাহান শিবলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম মসীহ, গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. আরিফুল ইসলামসহ মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তারা মূল লড়াইয়ে না থাকলেও বড় প্রার্থীদের ভোট বিভক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
নারায়ণগঞ্জ–৪
ভোটের লড়াই জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনেও। ফতুল্লা ও সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে আসনটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ১৩ জন প্রার্থী। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। তার দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘খেজুরগাছ’। অন্যদিকে জামায়াতের সমর্থন পেয়ে মাঠে রয়েছেন নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন (শাপলা কলি)। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে স্বতন্ত্র ও ভিন্ন দলের প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী তিন নেতাসহ আরও অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরা। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্থানীয় বিএনপির ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ আসনে বিএনপির ভোটাররা নীরব ভোট দেবেন। অর্থাৎ জোটের প্রার্থীর বিরোধিতা না করলেও তারা ভোট দেবেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা—দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে। দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলমের নিজস্ব অনুসারী রয়েছেন। বিএনপির সাধারণ কর্মীদের বড় একটি অংশ জোটের প্রার্থীর তুলনায় তাঁদের প্রতি বেশি আবেগী ও অনুগত, যা জোটের প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
মনির হোসেন কাসেমী বলেন, ‘আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। মূলধারার বাইরে গিয়ে কেউ সফল হতে পারবে না।’
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে দুজন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন (রিকশা)। এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি সমমনা দলের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রচারণায় আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তবে এ আসনে ভোটের লড়াই এখন জোট ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।’ আসনটির নির্বাচনী লড়াইয়ে আরও একটি মাত্রা যোগ করেছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী।
তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতিও। পরিচিত মুখ হওয়ায় বিএনপির ভোটারদের একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মী-সমর্থকদের ধমকানো হচ্ছে। তবু আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭১৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন।
নারায়ণগঞ্জ–৫ আসন
গঠিত হয়েছে সদর ও বন্দর দুই উপজেলা নিয়ে। আসনটিতে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে লড়াই জমে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাকসুদ হোসেন তিনবার মুছাপুর ইউনিয়ন এবং একবার বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর সমর্থন বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। আসনটির অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাসুম বিল্লাহ, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৫১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।










