শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক সংকট নিরসন দাবিতে ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে বিভাগটির পূর্বনির্ধারিত ক্লাস টেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, সমাজকর্ম বিভাগের শ্রেণীকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আবার বিভাগের শিক্ষকরাও সংকট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেও ফল পাননি। এ কারণে বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের না জানিয়েই গতকাল সকাল থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন, যা চলে দুপুর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড বহন করেন।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগটিতে তিনটি ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় শতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ভবনের পঞ্চম তলার একটি কক্ষকে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে দীর্ঘদিন। এই একটি মাত্র কক্ষে তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না। একই সঙ্গে পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে দেয়া সম্ভব হয় না। শ্রেণীকক্ষ সংকটে বিভাগটিতে ক্লাস নিয়মিত রাখতে গেলে পরীক্ষা নেয়া হয় না, আবার পরীক্ষা দিতে গেলে ক্লাস করানো হয় না। এর মধ্যে নতুন আরো একটি ব্যাচের ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান। নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে সংকট আরো তীব্র হবে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের সংকট নয়, শিক্ষক সংকটও চরম। তিনটি ব্যাচের জন্য অন্তত আটজন শিক্ষক থাকার দরকার। সেখানে শিক্ষক আছেন মাত্র চারজন। শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা সময়মতো নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান চয়ন শিকদার সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিভাগে শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে। একটিমাত্র শ্রেণিকক্ষ দিয়ে তিনটি ব্যাচের পাঠদান করানো দুরূহ। চারজন শিক্ষক দিয়ে বর্তমানে তিনটি ব্যাচের ক্লাসও ঠিকমতো নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার ওপর নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চলমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের আশ্বস্ত করা হলে তারা আন্দোলন থেকে সরে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের নতুন শ্রেণীকক্ষ দেয়া হবে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মাসের মধ্যে শিক্ষক সংকটের নিরসন হবে।’