উত্তরের শীতপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে কমছে তাপমাত্রা। শরত্কালের শুরুতেই জানান দিয়েছিল শীতের আগমন। হেমন্তের শেষের দিকে তাপমাত্রা কমে গিয়ে ১১ ডিগ্রির ঘরে নেমে এসেছে। গত দুদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়। গতকাল সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্র রেকর্ড করেছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা। সকালে ডুবছে ঘন কুয়াশায়, রাতে বাড়ে হাড় কাঁপুনি শীত।
বিগত বছরগুলোয় দেখা গিয়েছে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে মানুষের সঙ্গে এ অঞ্চলে কাবু হয়ে পড়ে পশুপাখিরাও। এবার অবশ্য এখনো সে অবস্থা শুরু হয়নি। তবে শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে। বাড়ছে শীতজনিত নানা রোগ। হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক রোগী। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১৮টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিত্সা নিতে হচ্ছে বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে। এছাড়াও জেলার হাটবাজারে শীতের পোশাকের দোকানগুলোয় ক্রমাগত ভিড় বাড়ছে।
দেখা যায়, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চল সকাল পর্যন্ত ডুবে থাকে ঘন কুয়াশায়। এর ফলে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালাতে হয়। এতে করে ইজিবাইকচালকসহ কাজে বের হওয়া নিম্ন আয়ের মানুষকে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে কুয়াশার স্থায়িত্ব কম।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, হেমন্তে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছিল। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরো কমে যেতে পারে। ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা শুরু হবে ডিসেম্বরের শেষ দিকে। পুরোপুরি শীত আসার সম্ভাবনা রয়েছে তখনই।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তৌহিদুল বারী বাবু জানান, এবার হেমন্তকালে তাপমাত্রা তুলনামূলক কমে গিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রার বেশি তারতম্যের কারণে কুয়াশার সৃষ্টি হয়। তবে হেমন্তকালের প্রতিদিনই এমন পরিবেশ বিরাজ করবে, তা নয়। মূলত আবহাওয়ার তারতম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণেই এবার হেমন্তে আগাম শীত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।’










