গতকাল বিকেএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানোর পাশাপাশি ‘শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নকারী বিগত সরকারের বিষয়ে অনেক অভিযোগও উত্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘শ্রম অধ্যাদেশে অনেকগুলো বিতর্কিত ধারা সংযোজন করে বিগত সরকার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধানোর পথ সৃষ্টি করে গেছে। যেহেতু দেশে এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে এবং সংসদে ওই শ্রম অধ্যাদেশ পাস করা হবে, তাই সংসদে পাসের আগে নতুন সরকারের কাছে এবং সংসদ সদস্যদের কাছে আমাদের অনুরোধ, শ্রম অধ্যাদেশের বিতর্কিত ধারাগুলো যেন বাদ দিয়ে সংসদে পাস করা হয়।’
মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি—এমন অভিযোগের কথা জানিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের চাকরি অবসানের ক্ষতিপূরণে সময়সীমায় অস্পষ্টতা রয়েছে। এছাড়া শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রেও আইনটি পরিষ্কার নয়।’ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ তহবিলের সংজ্ঞা সংশোধন, মাতৃকালীন মজুরিসহ আটটি সংস্কার করে আইন পাস করার দাবি জানিয়েছেন বিকেএমইএ সভাপতি।
গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মাতৃত্বকালীন কল্যাণ এবং বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি রোধে কমিটি গঠনের ধারাগুলো সংশোধনের প্রস্তাব দেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সভার কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি। ১২৪টি সংশোধিত ধারার মধ্যে আমাদের আপত্তি মাত্র চার বা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে, বাকিগুলো শ্রমিকদের জন্য অনুকূল বলে আমরা সমর্থন করি।’
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার ও সহসভাপতি শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।










