ভবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ দেখিয়ে ঢাকা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ২৬টি গাছ কেটে ফেলছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা জেলা প্রশাসক এবং বন অধিদপ্তরের সম্মতিতেই শতবছরের পুরনো এ প্রতিষ্ঠানের প্রায় চল্লিশোর্ধ গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী, কর্তনকৃত প্রতিটি গাছের বিপরীতে তিনটি গাছ লাগানো হবে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের দক্ষিণ দিকের গাছ কাটা হচ্ছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ১৮ দিন হলো চলছে গাছ কাটা কার্যক্রম। তারা বলেন, সরকারিভাবে টেন্ডার হওয়ার পর তারা গাছ কাটা শুরু করেন। সব গাছ কাটতে মাসখানেকের মতো সময় লেগে যাবে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. গোলাম ফারুক ফেব্রুয়ারিতে কর্মস্থলে যোগদান করেন। তিনি মার্চে কয়েকটি গাছ বিল্ডিং এবং পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয় ওই কলেজের সহকারি অধ্যাপক জয়দীপ পালকে।
পরামর্শক কমিটি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে ২৬টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দেয়। এ প্রসঙ্গে পরামর্শক কমিটির প্রধান বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা দুই ক্যাটাগরিতে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ শনাক্ত করি। বেশ কয়েকটি গাছ বিপুলভাবে বেড়ে ডালপালা রাস্তা পর্যন্ত চলে গেছে। বড় ধরনের ঝড়ের সময় এসব গাছের ডাল ভেঙে পথচারী আহত কিংবা নিহত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আর কিছু গাছ আছে যেগুলোর ডাল সরাসরি কলেজের বিভিন্ন ভবনের ছাদের ও দেয়ালের সঙ্গে ঘেঁষে বেড়ে ওঠেছে। বৃষ্টির মৌসুমে এসব গাছ থেকে পানি ঝরে কলেজের বেশ কয়েকটি ভবনের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সে গাছগুলোও কেটে ফেলার জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দিয়ে অধ্যক্ষকে লিখিত প্রতিবেদন দিই।
জানা গেছে, অধ্যক্ষ প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসককে পাঠান। জেলা প্রশাসক বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করতে চিঠি ইস্যু করেন। এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ বণিক বার্তাকে বলেন, বন অধিদপ্তর থেকে কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বন অধিদপ্তর জরিপ করে ২৬টি গাছের মূল্য ৯৮ হাজার ৫৬০ টাকা নির্ধারণ করেন। পরে গাছ কাটার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে নির্ধারিত দিনে নিলাম বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অধ্যক্ষ বলেন, নিলামে সর্বোচ্চ ডাক ওঠে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। আমরা সব ধরনের নিয়ম মেনেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে ফেলছি।
তিনি আরো বলেন, গাছ কাটা শব্দটা শুনলেই অনেকে মনে করেন এখানে কোনো ঘটনা বা অনিয়ম আছে। কিন্তু আমাদের এখানে তা নেই। বরং সব ধরনের সরকারি নিয়ম মেনে এবং বন অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের অবহিতক্রমে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটার পরিবর্তে তিনটি গাছ রোপণ করতে হবে। আমরা সে নির্দেশনাও অনুসরণ করছি। সে হিসাবে আমরা নতুন ৭৮টি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আরো ৭৫টি বৃক্ষ রোপণ করছি আমরা।










