চট্টগ্রাম মেডিকেলের অর্থোপেডিক্স বিভাগের ৬৫ নম্বর বেডে পায়ের ব্যথায় অনবরত কান্নাকাটি করছেন জিয়াউল হক (১৮)। চট্টগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত কারখানায় কাজ করতে যাচ্ছিলেন ১৮ জুলাই। কোটা সংস্কার দাবিতে তখন উত্তাল ছিল চট্টগ্রাম। বহদ্দারহাট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষ চলছিল। সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন জিয়াউল। হঠাৎ তার ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়।
স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করালেও গুলিতে পায়ের হাড় ভেঙে গেছে চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিয়াউল হকের। পায়ের সঙ্গে বুক ও মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে অনবরত চিৎকার করে কাঁদছেন গুলিবিদ্ধ এ শিক্ষার্থী। ডান পা কোনোদিন স্বাভাবিক হবে কিনা সেটা নিয়েও শঙ্কায় জিয়াউল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
কক্সবাজারের চকরিয়ার সন্তান জিয়াউল হক। চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় জিয়াউল। দুই বছর আগে জামিয়া আহমেদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা আলিম পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তবে অর্থাভাবে প্রথম বছর পড়াশোনা করতে পারেননি। এরপর কালুরঘাট এলাকার ওয়েল গ্রুপের কারখানায় চাকরি নেন। এক বছর পর পুনরায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন জিয়াউল। চাকরি থেকে যে টাকা আয় করেন তার কিছু পরিবারকে পাঠান। বাকি টাকা দিয়ে নিজের খরচ চালান।
জিয়াউল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘১৮ জুলাই দুপুরের পরে কারখানায় কাজের জন্য শুলকবহরের বড় ভাই রশিদুল্লাহের বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। কয়েক দিন আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পাওয়ায় ভালোভাবে হাঁটতে পারছিলাম না। বহদ্দারহাট মোড়ে এল সংঘর্ষের মাঝে পড়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলাম। এমন সময় পায়ে গুলি লাগে। দীর্ঘ সময় সেখানে পড়ে ছিলাম। পরে সেখানকার লোকজন আমাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। ১৩ দিন ধরে সেখানেই রয়েছি। আমার পা কোনোদিন ভালো হবে কিনা জানি না। কীভাবে আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরব।’
জিয়াউলের মা খুরশিদা বেগম বলেন, ‘ছেলেটা আমার কয়েকদিন ধরে ভালোভাবে খেতেও পারছে না। পা হারানোর শঙ্কা যেমন আছে, তেমনি অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে বুক ব্যথায় ছটফট করছে। কবে ভালো হবে সেটাও জানি না। আমার ছেলে নিজে কাজ করে নিজে চলে। আমাদের পরিবারেও টাকা দিত। ছেলের চিকিৎসা ব্যয় কীভাবে মেটাব সেটা নিয়েও আমরা চিন্তিত।’
জিয়াউলের প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, চট্টগ্রামে যারা গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন, তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। আহতদের সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।










