কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দ্বেবিনগরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ১০জন আহত হয়েছে। আহত একজনের অবস্থা আশংকাজনক।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুসারী। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসাপাতালে ভর্তি আহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জানান,‘ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি দ্বন্দের জেরে শুক্রবার রাতে সদর খান অনুগত আনিচ চেয়ারম্যানের লোকজন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবুল আখতারের লোকজনের ওপর হামলা ও ভাংচুর করে কয়েকটি ঘরবাড়ি। তার জের ধরে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিবাদমান দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাহিদা খাতুন ও শহিদুল ইসলাস গুলিবিদ্ধ এবং উজ্জল শেখ ও মাসুম বিশ্বাসসহ অন্যদের ধারালো অস্ত্রে আঘাতে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহতদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ এখনও কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি এবং পুলিশ কাউকে আটক করেনি।
উল্লেখ্য সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ঘিরে দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৮ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দ্বিতীয় বারেও সভাপতি নির্বাচিত হন সদর উদ্দিন খান ও খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুসারী বাবুল আকতার। এদুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গত ২৫ নভেম্বর খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের দিনও দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০জন আহত হয়।










