ফ্যাসিবাদের দোসর বিচারপতিদের অপসারণ ও আদালত প্রাঙ্গণে গণহত্যাকারীদের পক্ষে স্লোগান দেয়া ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটির লিগ্যাল উইং।
আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) সংগঠনটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণহত্যাকারী আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের দ্বারা সংঘটিত জুলাই ম্যাসাকারের বিচার প্রক্রিয়া এখনো ত্বরান্বিত হয়নি। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আদালত চত্বরে আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখেছি। একদিকে জুলাইয়ের শহীদদের জানাজা চলমান, আহতরা চিকিৎসাধীন, রাজপথে রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি; অন্যদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী খুনিদের আস্ফালন থামেনি। জাতীয় নাগরিক কমিটি মনে করে- সব ব্যক্তিরই আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার আছে; কিন্তু গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো খুনী ও তার দলের পক্ষে স্লোগান দেয়া কিংবা পুনর্বাসনের চেষ্টার অধিকার কারো নেই। আমরা মনে করি, আদালত প্রাঙ্গণে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেয়া শহীদ ও আহতদের রক্তের সঙ্গে উপহাসের শামিল। যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যাকারী হাসিনার গুম-খুন-দুর্নীতি-নির্যাতনের রাজত্ব কায়েম হয়েছে এবং আমাদের ভাইবোনদের শহীদ করা হয়েছে, আইনজীবী পেশাকে ঢাল বানিয়ে সে একই স্লোগান তুলেছে পরাজিত মুজিববাদী ফ্যাসিবাদীরা।
এতে বলা হয়, এছাড়াও আমরা দেখতে পাই- বিভিন্ন আদালতের যেসব বিচারক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন, নিজেদেরকে ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ও ফ্যাসিবাদী জমানায় গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন, তারা এখনো আদালতে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ফ্যাসিবাদের দোসর বিচারপতিদের অনতিবিলম্বে অপসারণের দাবিতে এবং আদালত প্রাঙ্গণে গণহত্যাকারী আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আস্ফালনের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক কমিটির লিগ্যাল উইং বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নুর, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ। এতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় আইনজীবীরা বলেন, যেসব বিচারক ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত স্ব-স্ব পদে বহাল আছেন এবং বিচারকার্য পরিচালনা করছেন, তাদেরকে গণবিরোধী ফ্যাসিবাদী অবস্থানের কারণে অতিসত্বর অপসারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সংবিধানের অজুহাত দেয়া চলবে না। এছাড়াও যেসব আইনজীবী আদালত প্রাঙ্গণে গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিয়েছে এবং তাদেরকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে, তারা এ গণহত্যার মদদদাতা এবং এদেরকে অতিসত্ত্বর বিচারের আওতায় আনতে হবে।










