লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শমসেরনগর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে মিজানুর রহমান (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ মিজানুর রহমানের সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. কালী প্রসাদ সরকার ও পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত।                           

নিহতের পরিবার, রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও পাটগ্রাম পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের শমসেরনগর সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু আনতে গেলে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের মুংলীবাড়ী সীমান্তের নাসিম উদ্দিন ভুট্টুর ছেলে। মিজানুর রহমানের সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার সুলতান হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মিজানুর রহমানসহ পাঁচ-সাতজনের একটি দল গরু আনার জন্য পূর্বজগতবেড় এলাকার শমসেরনগর সীমান্তে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে ভারতীয় রানীনগর ১৪০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চুয়াংগারখাতা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যদের গুলিতে মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়াপ্রতিবাদ পত্র দিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃতদেহ বর্তমানে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. কালী প্রসাদ সরকার বলেন, গত রাতে ৪টা ২০ মিনিটে আল জাহিদসহ কয়েকজন ব্যক্তি গুলিতে নিহত মিজানুর রহমানকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে দেখি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মিজানুর রহমানের মাথার পেছনে গুলি ঢুকে ভেতরেই আছে। এটাকে অক্সিটাল রিজিওন বলে। গুলি এন্ট্রি হয়েছে কিন্তু এক্সিট হয়নি। অর্থাৎ দূর থেকে গুলি করার কারণে সেটি বের হয়ে যায়নি। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি পাটগ্রাম থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা মৃতদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।