করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি। তবে তাদের সেই সুপারিশ আমলে নেয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠন করা টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটিতে উপস্থিত সদস্যরা। আর টেকনিক্যাল কমিটির এই সুপারিশসহ অন্যান্য সুপারিশ যাতে দ্রুত আমলে নেয়া হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে টাস্কফোর্স কমিটি।
করোনা মহামারীর প্রভাবে কভিড-১৯ আক্রান্তদের সেবা ও অন্যান্য সুবিধা দেখভালের জন্য প্রায় অর্ধশতাধিক কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আবার এসব কমিটির কাজ তদারকিতে একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে টাস্কফোর্স কমিটিও গঠন করা হয় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। এই টাস্কফোর্স কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, কভিড-১৯ প্রতিরোধে এবং আক্রান্ত রোগীদের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এ পর্যন্ত গঠিত কমিটিগুলোর কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। এই কমিটির এখন পর্যন্ত তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, টেকনিক্যাল কমিটির তিনটি সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। তার মধ্যে একটি হলো নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো।
জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বৈঠকে জানান, তিনটি বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। প্রথমত কভিড-১৯ পরীক্ষা বাড়ানো। প্রতিদিন ২০-২৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১৫ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। দ্বিতীয়ত অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করা এবং র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা।
সভায় সদস্যদের আলোচনায়ও উঠে আসে টেস্টের জন্য ফি নির্ধারণের ফলে নমুনা পরীক্ষায় নিম্ন আয়ের মানুষ অনাগ্রহী হয়েছে। বর্তমানে চার লক্ষাধিক কীট অব্যবহূত আছে। সরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষায় ফি মওকুফ করে আদেশ জারি করা প্রয়োজন। বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ফি বহাল রাখা যায় বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে। কমিটি র্যাপিড টেস্ট কিট অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন ও চালু করার বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানায়।
বৈঠকে আইইডিসিআরের সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকার তিরিশ ভাগ আর লক্ষণবিহীন ব্যক্তিদের শতকরা আট ভাগ ভাইরাস বহন করছে। দ্রুত এ ভাইরাস বহনকারীদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনে রাখা না গেলে জ্যামিতিক হারে তা কমিউনিটিতে ছড়াতে পারে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। আর ১০ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানায় আইইডিসিআর। করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব এড়াতে সরকার গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ১৭ জন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি’ গঠন করে। গত ২৬ আগস্ট সেই কমিটির পরিধি আরো বাড়িয়েছে সরকার।
দেশে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই এ রোগ শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর কথা বলে আসছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। এমনকি গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
চিকিৎসকরা বলছেন, এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক না আসা পর্যন্ত রোগী শনাক্ত ও আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই এ ভাইরাসের ব্যাপ্তি রোধ করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞদের নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ আমলে নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।










