সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামে বজ্রপাতে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নয়জনের মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসী কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। মৃতদের বাড়িতে চলছে অনবরত শোকের মাতম। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাটাও যেন কারো জানা নেই। সবাই যেন আজ শোকে স্তব্ধ।
দুই ছেলে, ছোটভাই, মেয়েজামাই ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে পাশের মাটিকোড়ায় আমন ধানের চারা তুলতে গিয়েছিলেন শিবপুর গ্রামের বৃদ্ধ শমসের আলী (৬৫)। আকস্মিক বজ্রপাতে তিনিসহ প্রাণ হারান পরিবারের পাঁচ সদস্য। একই সময়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সমসেরের পরিবারের বাকি এক সদস্যের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এদিকে বজ্রপাতে মৃতদের মরদেহ দেখে বাড়ি ফেরার পথে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান হোসনে আরা খাতুন নামে এক বৃদ্ধ। তিনি এনায়েতপুর মল্লিকপাড়া গ্রামের শোভা আলী মল্লিকের স্ত্রী। একসঙ্গে এত মৃত্যুর মুখোমুখি এর আগে হয়নি মাটিকোড়ার মানুষ। তাই এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম।
শমসের আলী পরিবারের নিহত বাকি সদস্যরা হলেন—তার ছোট ভাই আফছার আলী (৬০), ছোট ছেলে শাহিন মিয়া (২১), জামাতা মোকাম মিয়া (৫০), সমসের আলীর নাতি ও মোকাম মিয়ার ছেলে মোন্নাফ আলী (১৮)। এ ঘটনায় আহত সমসের আলীর বড় ছেলে জাহাঙ্গীর (২৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত বাকিরা হলেন—পঞ্চকোশী ইউনিয়নের মাটিকোড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৪০), বাহাদুর হোসেনের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৬০), মোস্তফার মেয়ে রিতু খাতুন (১৪) ও নুরনবীর মেয়ে জান্নাতি (১৪)।
উল্লাপাড়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদ হোসেন জানান, সমসের আলীর পরিবার হতদরিদ্র। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে চলত তাদের সংসার। বজ্রপাতের ঘটনায় একজন ছাড়া ওই পরিবারের সব সদস্যই মারা গেছেন। বেঁচে আছেন যিনি তার অবস্থাও ভালো না। মর্মান্তিক এ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দলে দলে মানুষ নিহতদের বাড়ি এসে এতগুলো মরদেহ দেখে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেন। এ শোক সইতে না পেরে অনেকে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। আবার কেউ নীরবে ফেলছেন চোখের পানি। নিহতদের স্বজনকে সান্ত্বনা দেয়ারও যেন ভাষা নেই কারো।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম নিহতদের বাড়ি গিয়ে সান্ত্বনা জানিয়েছেন স্বজনকে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। তিনি বলেন, এভাবে এতগুলো মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নিহত সবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ তহবিল থেকে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ নিহত প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দিয়েছেন।










