চাঁদপুরে ‘গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে’ বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৬ জন দগ্ধ হয়েছে। রোববার (৯ মার্চ) সেহেরির সময় শহরের কোরালিয়া রোড রুস্তম বেপারী বাড়ির চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে চারজনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান জানান, দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান (৬৫), তার স্ত্রী শানু বেগম (৫৫), তাদের বড় ছেলে স্ত্রী খাদিজা আক্তার (৩০) ও ছোট ছেলে মঈন হোসেনকে (২০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া তাদের বড় ছেলে ইমাম হোসেন (৪০) ও মেঝ ছেলের স্ত্রী দিবা আক্তারকে (২০) ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, খাদিজার শরীরের ৮৫ শতাংশ, শানু বেগমের ২০ শতাংশ, আব্দুর রহমানের ১৮ শতাংশ এবং মঈনের শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এদিকে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে দগ্ধদের স্বজনরা ধারণা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার ভোররাতে সেহরির জন্য খাবার গরম করতে রান্নাঘরে যান পুত্রবধূ খাদিজা বেগম। ওই সময় গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন ওই বাসার ছয়জন। তাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বাসায় ১১ জন ছিলেন। এরমধ্যে ছয়জন দগ্ধ হন। আবদুর রহমানের ছোট ছেলে রাতে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। এতে রাতে বাসার প্রথম দরজায় তালা লাগিয়ে রাখেন। এতে করে আগুন পুরো বাসায় ছড়িয়ে পড়লে তারা বাসা থেকে বের হতে বিলম্ব হয়। প্রতিবেশীরা দরজা খোলার পরে তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
অগ্নিদগ্ধ ইমাম হোসেন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী খাদিজা আক্তার রান্নাঘরের সামনে ডাইনিং রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম কিন্তু কীভাবে ঘরের ভেতর আগুন লেগেছে আমরা কিছু বলতে পারব না। একই হাসপাতালে ভর্তি অগ্নিদগ্ধ দিবা আক্তারও বলেন, কীভাবে আগুন লেগেছে আমিও জানি না।পাশের ফ্ল্যাটের খোরশেদ আলম ঢালি বলেন, আমরা ভোর ৪টায় সেহরি খেতে উঠি। এসময় বিকট আওয়াজ হয়ে পুরো বিল্ডিংটি কেঁপে উঠে। এ সময় পাশের ঘরে আগুন আগুন চিৎকার শুনে দৌঁড়ে যাই। আমরা তখন পানি ও কাঁথা কম্বল দিয়ে তাদের ঘরের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে সবাইকে উদ্ধার করি।










