জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) ২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অটো পাসের দাবির আন্দোলন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য (ভিসি) এএসএম আমানুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উপাচার্য সামান্য আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে গাড়ি থেকে নামার সময় পরীক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তাদের মধ্য থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী উপাচার্যের ওপর হামলা করে। এতে তিনি পায়ে চোট পান।’

স্নাতক (পাস) কোর্সের ছাত্র-ছাত্রীরা অটো পাসের দাবিতে কয়েক মাস আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফটকে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু অটো পাস না দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনড় ছিল। এরই মধ্যে স্নাতক (পাস) কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে ৬৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কভিড মহামারী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা বিবেচনা করে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এরই মধ্যে “‍গ্রেস মার্ক” দিয়ে পাস করানো হয়েছে। এছাড়া তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগও দেয়া হয়েছে, যার ফল এ মাসেই বের হবে। কিন্তু বিভিন্ন মহলের উসকানির পরিপ্রেক্ষিতে কিছুসংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী আবার অটো পাসের দাবিতে করা আন্দোলন থেকে হঠাৎ করে উপাচার্যের ওপর হামলা চালায়। কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অটো পাস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসএম মাসুদ রানা আতাউর জানান, হামলার সময় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন এবং ভিসির একান্ত সচিব আমিনুল আক্তারও আঘাত পান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করেই ভিসিকে ঘিরে ধরে এবং সেই সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এ বিষয়ে গাছা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘এক বিষয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলন করেছে। হামলার বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’