মৌলভীবাজারের দুটি সীমান্ত দিয়ে আরো ৭১ জনকে ঠেলে দিয়েছে (পুশ-ইন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গতকাল ভোরে বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাম্বুরাছড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়। এ নিয়ে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত ৫১৭ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুশ-ইন করা হয়েছে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে।

বিজিবির তথ্য বলছে, গত ৭ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে ৩৮০ জনকে। এর মধ্যে শুধু বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে ৩৪০ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিকও রয়েছেন।

বিজিবি ও পুলিশ জানায়, গতকাল ভোরে বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল সীমান্ত দিয়ে ৪৮ জনকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ১৫ নারী ও ১৮ শিশু রয়েছে। পাল্লাতল খাসিয়াপুঞ্জি থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক চৌধুরী জানান, পুশ-ইন করা ৪৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে তাদের বড়লেখা থানায় হস্তান্তর করা হবে।

একই দিনে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিঁন্দুরখান ইউনিয়নের জাম্বুরাছড়া সীমান্ত থেকে ২৩ জনকে আটক করে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। তাদের মধ্যে নয় নারী, নয় শিশু ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, বিজিবি ২৩ জন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এখনো তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।

মৌলভীবাজার জেলার সঙ্গে ভারতের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সঙ্গে ৪৯ কিলোমিটার। কমলগঞ্জে ৭৩, কুলাউড়ায় ৪৩, জুড়ীতে ৬৪ ও বড়লেখা ৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই টিলা ও পাহাড়বেষ্টিত।

বিজিবির তথ্য বলছে, ৭ মে থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৫১৭ জন পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৬১ জন, বড়লেখা সীমান্তে ৩৪০, কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে ২১, জুড়ী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ১০, শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত দিয়ে ৪২ জন ছাড়াও ৪৩ জন আটক হয়েছে বিজিবির হাতে।