যশোর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ২৯৩টি। ২০১৮ সালে এসব বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন। কয়েক বছর চালু থাকলেও ২০২০ সালে কভিডে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মেশিনগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। অ্যানালগ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের খাতায় হাজিরা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, মেশিনগুলো চালুর ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসও উদ্যোগ নিচ্ছে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে জেলার ১ হাজার ২৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয় এ যন্ত্র। এরপর চালু করা হয় মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে পাঠদান। তবে মাল্টিমিডিয়া চালু থাকলেও তিন বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন।

সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের এ মেশিন স্থাপনের এক বছর পর স্ক্রিন ঘোলা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তখন মেশিন আর কাজ করত না। এজন্য খুলে রাখা হয়েছে।

ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা শিরিন সুলতানা জানান, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের দেড় বছর পর আঙুলের ছাপ নিত না। ২০২০ সালে কভিডের সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মেশিনগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খাতায় শিক্ষার্থীদের হাজিরা নেয়া হচ্ছে।

একই কথা বলেন উপশহর শহীদ স্মরণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাদ হোসেন বাবু। শিক্ষকদের অভিযোগ, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন চালুর বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন সংস্কার বা নতুন করে স্থাপনের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো বরাদ্দ নেই। এ কারণে মেশিন চালুর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। একই কথা বলেন চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘ডিজিটাল হাজিরা মেশিন চালুর বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে তখন ব্যবস্থা নেয়া হবে।’