দিনাজপুরে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের আক্রান্তের হার বেশি। এদিকে রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোয় স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের থাকতে হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়।

দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর জন্য বেড আছে ১০টি। কিন্তু গতকাল সকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৪৮ জন।

জেলা সিভিল সার্জন জানান, শুধু জেনারেল হাসপাতালই নয় জেলার মোট ১২টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেড় শতাধিক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া গতকাল পর্যন্ত বহির্বিভাগে ডায়রিয়াজনিত সমস্যায় চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ছয় শতাধিক রোগী।

বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত বেড না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় মাদুর পেতে শুয়ে আছেন রোগীরা। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। অন্যান্য সময়ে ডায়রিয়া রোগী গড়ে ৮-১০ জন ভর্তি থাকলেও ১ মার্চ থেকে রোগী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৪০ জনেরও বেশি।

সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রমা রানী হাসপাতালের রেজিস্ট্রার দেখে জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ২১৩ জন। এর মধ্যে ৪৪ জন ডায়রিয়া রোগী। চলতি মাসের শুরু থেকে ডায়রিয়া রোগী বাড়তে থাকে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন আটজন। মাসের শুরুতে ২৫-৩০ জনের মধ্যে থাকলে বর্তমানে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৪৫-৫০ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার ৬৫ জন রোগী ভর্তি ছিল।

দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পারভেজ সোহেল রানা বলেন, সদ্য শীতকালীন আবহাওয়া শেষ হয়েছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাসের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।