সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক। যদিও সরকারি এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না জয়পুরহাটের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পার হতে চললেও জেলার ২২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে এখনো নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলোও সারা বছর পড়ে থাকে অযত্নে-অবহেলায়। ফেব্রুয়ারি এলেই শুরু হয় এসব শহীদ মিনার ধোয়া-মোছার কাজ।

জয়পুরহাট জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে ২১টি কলেজ, ২৩টি কারিগরি কলেজ, চারটি স্কুল ও কলেজ, ১১১টি মাদ্রাসা, ১৫২টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। জেলায় সব মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৮২টি। এর মধ্যে ২২৮টিতে নেই শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এসব প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিস্তম্ভ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে স্থানীয়রা। জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোট পাঁচটি উপজেলায় ৩৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার ছিল না, সেখানে সরকারি নির্দেশে প্রতিটিতে শহীদ মিনার তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির জানান, কিছু কিছু বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার আছে। যেখানে নেই সেখানে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে ধারণা দেয়ার জন্য এসব শহীদ মিনার বানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে শতভাগ। তবে জেলার মধ্যে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত একটিমাত্র শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নেই কোনো শহীদ মিনার। এটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে নয়।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহাদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে আমরা একটি তালিকা করে জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করেছি। তারা পর্যায়ক্রমে যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেখানে তৈরি করে দেবেন।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুলগুলোয় শহীদ মিনার রয়েছে শতভাগ। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসাগুলোয় শহীদ মিনার নেই। তবে এখন বিভিন্ন মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট জানান, জেলায় যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নির্মাণ করে দেয়া হবে। এরই মধ্যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জেলার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে জেলা পরিষদকে বলা হয়েছে।