সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস। ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোর নদ-নদী কিছুটা উত্তাল থাকায় অভ্যন্তরীণ ২০ রুটে নৌচলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে কয়েকটি নৌ-রুটে সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে ফেরি।

নৌ-রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কিছুটা বৈরী আবহাওয়ায় লঞ্চ ও সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

ভোলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হচ্ছে। তবুও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সমুদ্র ও নদ-নদীতে মাছধরা ট্রলার-নৌকাগুলোকে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ১৭ আগস্ট থেকে জেলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর, মনপুরা-ঢাকা, চরফ্যাশন-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ ২০টি নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভোলার মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন জানান, নদী উত্তাল থাকায় ডেঞ্জার জোনে কর্ণফুলী সিরিজের লঞ্চগুলোর চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে হাতিয়া, মনপুরা, চরফ্যাশন ও হাকিমুদ্দিন ঘাট থেকে ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি বুঝে কিছু ফেরি চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইনচার্জ মো. পারভেজ। তিনি বলেন, ‘এ রুটে লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতে কিছু যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।’

বিআইডব্লিউটিএ ভোলার বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না কাটতে অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল করতে দেয়া হবে না। তাছাড়া অতীতে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে এ রুটকে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করায় দুই অঞ্চলের আবহাওয়ার একই বার্তা দেয়া হয়।