পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া খালের সেতুটি একটি বালিবাহী ট্রলারের ধাক্কায় এক বছর আগে ভেঙে যায়। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সেতুটি নির্মাণে নেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। লোকজনের চলাচলের দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে পিরোজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম মিরন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন। তিন দফায় সাঁকোটি নির্মাণে তার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। সাঁকোটি দিয়ে এলাকার মানুষ এখন হেঁটে খাল হতে পারবে।

আমিরুল ইসলাম মিরন বলেন, কয়েক মাস আগে আমার ভাই পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল ও এলাকার আরেকজন অসুস্থ হয়ে পড়লেও সেতু না থাকায় তাদের হাসপাতালে নিতে পারিনি। সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো তারা মারা যেত না। তিনি বলেন, বাঁশবাড়িয়া খালের ওপর থাকা ৯৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের সেতুটি বালিবাহী ট্রলারের ধাক্কায় এক বছর আগে ভেঙে যাওয়ার পর আমি পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে জানাই। এরপর মন্ত্রীর নির্দেশে পিরোজপুর এলজিইডির কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। সে পর্যন্তই শেষ, আর কোনো অগ্রগতি দেখিনি।

সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. জামাল হাওলাদার বলেন, হরিনা, গাজীপুর, কালিকাঠি, খামকাটা, বাঁশবাড়িয়া এলাকার লোকজন এ সেতু পার হয়ে পিরোজপুর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়। এক বছর ধরে সেতু না থাকায় লোকজনের চলাচলে দুরাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত সরকার জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশে পিরোজপুর এলজিইডির তত্কালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত রঞ্জন ও আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ বিষয়ে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করার পরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।