বান্দরবানে অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত চার বছরে অনুমোদনহীন বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৬০ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে বেসরকারি এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তবে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন।
দেশব্যাপী অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে পরিচালিত চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৩১ মে পর্যন্ত আটটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিউদ্দিন মোরশেদ।
লামা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র জানায়, অভিযান পরিচালনাকালে একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল ও সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের তথ্যানুযায়ী সে সময় জেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ডেন্টাল কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা ছিল ১৭টি। এর মধ্যে বান্দরবান সদরে ১১টি, লামা উপজেলায় দুটি, আলীকদম উপজেলায় দুটি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দুটি। তবে বান্দরবান সদরের মাউন্টভ্যালি মেডিকেল সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এদিকে গত ৩১ মে বিভাগীয় পরিচালককে (স্বাস্থ্য) বান্দরবান সিভিল সার্জন একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে আবেদিত এবং আবেদিত নয়—দুই ভাগে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ১৩টির মধ্যে গত চার বছরে নানা সময়ে প্রতিষ্ঠিত নতুন চারটি যুক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো অনুমোদন নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে, যা অবৈধ। একইভাবে বর্জ্য অপসারণ চুক্তি করা নেই বলে জানিয়েছে বান্দরবান ও লামা পৌরসভা সূত্র।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদনহীন এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দীর্ঘদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কোনো ধরনের নজরদারি করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। এজন্য নিবন্ধিত হওয়ার তাগিদ ছাড়াই বিনা বাধায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে কোনো অনুমোদন ছাড়াই বান্দরবান চক্ষু হাসাপাতাল নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেড় বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জানা গেছে, চিকিৎসক আসেন সপ্তাহের রোববার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার। ব্যবসায়ী ও বান্দরবান চক্ষু হাসাপাতাল ভবনের মালিক মো. জামাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে জেলা শহরসহ রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলার নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় করে। মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার চোখের অপারেশন করা হয়। চার তলা ওই ভবনের নিচ তলা ও তৃতীয় তলা হাসপাতালটিকে ভাড়া দিয়েছেন। চক্ষু হাসপাতালটিকে দেড় বছর আগে ভাড়া দেয়া এ ভবনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় নিজেরা থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিষেধ করায় দুদিন চক্ষু হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ফায়ার লাইসেন্স নিচ্ছে না বলে জানান ফায়ার সার্ভিস বান্দরবানের পরিদর্শক মো. সামশুল আলম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, জেলা সদরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক মো. ফখরুল উদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিঠি দিয়েও জেলার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা পাচ্ছি না। এ সীমাবদ্ধাতার মধ্য থেকে পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দিয়েছি। তালিকা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলাজুড়ে অনিবন্ধিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, জেলার সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। যে কাগজগুলো নেই সেগুলো যোগ করতে বলা হচ্ছে। লামা উপজেলার কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন এখনো পাইনি। বান্দরবান চক্ষু হাসপাতালে কোনো কাগজপত্র না থাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।










