রংপুর বিভাগে বতর্মানে চলছে মৃদু থেকে মাঝারি দাবদাহ। সপ্তাহব্যাপী চলা বৈরী আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ৩৫-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। এদিকে প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর-সর্দি-কাশি। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি ও বমির প্রবণতা, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্তদের চাপ বাড়ছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে। এদিকে দুই-তিনদিন আগে এ অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

গতকাল রমেক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় একটি শয্যায় একাধিক শিশু রাখতে হচ্ছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ৯নং শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ৪০টি। বর্তমানে ১১১ জন রোগী আছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স আইরিন আক্তার। তিনি জানান, উল্লেখিত রোগীর মধ্যে ৭৬টি শিশুই নতুন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া ১০নং শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪০ শয্যার বিপরীতে শিশু ভর্তি আছে ৪৬টি।

এদিকে গতকাল ১০নং ওয়ার্ডে সকাল ১১টা পর্যন্ত নতুন ১০ শিশু নানা অসুখ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। তাই এ ওয়ার্ডেও শিশু রোগীর সংখ্যা আরো বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

১০নং ওয়ার্ডের দায়িত্বরত রেজিস্ট্রার ডা. মো. ফখরুল আলম জানান, শিশু ওয়ার্ড দুটিতে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তবে এর মধ্যে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমে সাধারণত পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন পানি খেলে ভালো। তিনি আরো বলেন, খুব প্রয়োজন না হলে রোদে বাইরে বের না হওয়াই ভালো।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এ অঞ্চলে সৃষ্ট সপ্তাহব্যাপী মৃদু ও মাঝারি তাপ প্রবাহ আরো দু-তিনদিন স্থায়ী হতে পারে। আগামী ১৯ জুলাই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৈরী আবহাওয়ায়  তাপমাত্রা ৩৫-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে বলে তিনি জানান।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. আরশাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে শুধু রংপুর নয় সারা দেশে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শুধু আবহাওয়াজনিত কারণে জ্বর হচ্ছে এ কথা বলা যাবে না। কারণ বর্তমানে করোনায় আক্রান্তের হার বেড়েছে। করোনা পরীক্ষা করলে তা বোঝা যেত। তিনি বলেন, স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও হিট স্ট্রোকে শিশু অথবা অন্য কোনো রোগী হাসপাতালে কয়েকদিনের মধ্যে মারা যায়নি।