১২ দিনের ব্যবধানে বান্দরবানে ফের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের চাকমা পুনর্বাসন পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জ্বলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা (৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি জেলা সদরের উপশহর বালাঘাটা বাজারের বাসিন্দা।

আজকের ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান মাংয়ং ম্রো। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, আজ মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে ৭নং ওয়ার্ডের চাকমা পুনর্বাসন পাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। কত সময় ধরে গোলাগুলি চলছিলো তা জানা যায়নি। গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন স্থানীয়রা। ভয়ে কেউ ওদিকে যাচ্ছিল না বলে তিনি জানান।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে, কেনো ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

এর আগে এ মাসের প্রথম সপ্তাহের শনিবার বেলা ১১টার দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের দুর্গম নোয়াপাড়ায় একদল সশস্ত্র লোক জেএসএস সদস্য উনুমং মারমাকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে যায় ওই দলটি। এর কয়েক ঘণ্টা পর রোয়াংছড়ি উপজেলার মংবাইতং ও রুমা উপজেলার কানানপাড়ার মাঝামাঝি জনশূন্য ফালংখ্যং নামক স্থানে গোলাগুলির শব্দ পায় এলাকাবাসী। পরদিন রোববার সকালে এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চার ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, নিহতরা মারমা লিবারেশন পার্টির (এমএলপি) সদস্য। নিহতদের বান্দরবান সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো আত্মীয়-স্বজন না আসায় বেওয়ারিশ হিসেবে নিহতদের মরদেহ বিধি অনুযায়ী সৎকার করা হয়।

এদিকে নোয়াপাড়ার ঘটনার পরদিন রোববার সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়া উনুমং-এর খোঁজ এখনো মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।