মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বিজিপিসহ মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর ১২৩ জন সদস্যকে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজারের টেকনাফ-নাজিরপাড়া-সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ এলাকার বিপরীতে

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার ও তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত প্রকট আকার ধারণ করায় গত ১১ জুন ২০২৪ হতে ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর ১২৪ জন (বিজিপি-১০৯ এবং সেনা-১৫) সদস্য প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং বিজিবির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। বিজিবি তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় প্রদানসহ বাসস্থান, খাবার, পোশাক ও চিকিৎসাসেবাসহ নিরাপত্তা প্রদানের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আশ্রয়গ্রহণকারী সদস্যদের একজন বিজিপি সদস্য গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিভারের রোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই বিজিপি সদস্যের মৃতদেহ মিয়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ মর্যাদায় যথাযথ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার শ্মশান ঘাটে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর ১২৩ জন  সদস্যকে বিজিপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বমোট ৮৭৫ জন সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তিন ধাপে ৭৫২ জন সদস্যকে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।