একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক, ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা থাকলেও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর।

জানা গেছে, ভারি বৃষ্টিতে নগরীর মাসকান্দা, শান্তিনগর, নয়াপাড়া, সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকীবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশন রোড, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। অনেকের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে। ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে উঠে আসায় চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরবাসী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েন। রিকশা ও অটোরিকশার ভাড়াও দ্বিগুণ হয়ে যায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, ‘শুধু অস্থায়ীভাবে পানি অপসারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন খনন জরুরি।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় আগের তুলনায় পানি নামতে বেশি সময় লাগছে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আমি নিজে তদারক করে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করাচ্ছি। ফলে ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও আগের তুলনায় দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। ড্রেনগুলো অপরিষ্কার থাকার কারণে মূলত অলিগলিতে পানি জমে যেত। বহুতল ভবনের মালিকরা অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছি। আশা করছি, নাগরিকরা দ্রুত এর সুফল পাবেন।’