দেশের সব বন্ধ কারখানা পর্যায়ক্রমে খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন বিকাল ৩টায় সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়। বিকাল সোয়া ৪টায় তিনি সেখানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমার সামনে একটি ব্যানার আছে, যেখানে লেখা– বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। আমি আপনাদের জানাতে চাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি। এই সপ্তাহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং (বৈঠক) নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে আমরা ঠিক করব কত দ্রুত বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেয়া যায়।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। শিল্প কলকারখানাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিয়ে দেশটিকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকেরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। শুধু বন্ধ কারখানা চালু নয়, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। দেশে নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি হলে আমাদের শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বাড়বে।

pm 2

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়ে সতর্ক থেকে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ শ্রমিক দলের নেতারা।

বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে এদিন সকাল থেকেই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ প্রভৃতি জেলার শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকরা এই সমাবেশে আসতে শুরু করেন। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা স্লোগান দেন তারা। তাদের স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয় সমাবেশস্থল।

সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের বিস্তৃতি নয়াপল্টনে ছাড়িয়ে কাকরাইল, নাইটিঙ্গেল ও ফকিরেরপুল মোড় পযর্ন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।