বান্দরবানের সদর উপজেলায় শতবর্ষী চণ্ডুল গাছে পাখি শিকারিদের জন্য লাগানো বাঁশের মই ধ্বংস করেছে বন বিভাগ। সদরের জামছড়ি ইউনিয়নের ময়নাতলীতে এ ময়টি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ধ্বংস করা হয়। বিষয়টি বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান। 

মই ধ্বংস করার কাজে অংশ নেয় বিভাগটির সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক, তারাছা রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম এনামুল হক, চেমী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলমগীর, অফিসার ইনচার্জ স্পেশাল ও পাইক্ষ্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বড়ুয়া, পলি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ প্রমুখ। 

রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম এনামুল হক বণিক বার্তাকে জানান, বিশেষ মাধ্যমে খবর পেয়ে মইটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেন পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মইটি ধ্বংস করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ চণ্ডুল বৃক্ষটিতে টিয়া, ময়নাসহ কয়েক প্রজাতি পাখি বাস করে। মই ধ্বংস করার সময় ওই এলাকা টিয়া পাখিসহ কয়েক প্রজাতির পাখির শব্দে মুখরিত ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী পাখি শিকার পুণরাবৃত্তি রোধ ও জড়িতদের সন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশালাকার পাতা ঝড়া বৃক্ষের গোড়া থেকে মগ ডালের কাছাকাছি পর্যন্ত মোটা তিনটি বাঁশ জোড়া দিয়ে গাছে উঠার মই বানানো হয়েছে। কয়েকটি স্তরে প্লাস্টিকের দড়ি পেঁচিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে বাঁশগুলো। একইসঙ্গে গাছের গোড়া থেকে মগ ডাল অবধি অর্ধেক করে অগণিত পেরেক গাঁথা রয়েছে। পায়ের আঙ্গুল আটকিয়ে গাছে উঠার জন্য শিকারিরা এই পেরেকগুলো গেঁথেছে বলে জানায় স্থানীয়রা। দেখা গেছে গোড়া থেকে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু পর্যন্ত বাঁশের মই ধ্বংস করা হয়েছে। পেরেকগুলো বেঁকিয়ে দেয়া হয়েছে।    

স্থানীয়রা জানায়, শতবর্ষী এ চন্ডুল বৃক্ষে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট অগণিত ছোট বড় গর্তে বাসা বাঁধে টিয়া, ময়না, বুনো কবুতর, পেঁচাসহ হরেক রকমের পাখি। গাছটিতে টিয়া পাখির সংখ্যা বেশি। এরপর রয়েছে ময়না পাখির বাস। চলতি সময়ে পাখি ডিম পাড়ে, ডিমে তা দেয়, কোনো কোনো পাখি ছানাদের পালক গজাতে শুরু করে। পাখিরা রাতে নিজ নিজ বাসায় ঘুমায়। পাখি ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে পড়ে পাখিসহ ডিম ও ছানার লোভে শিকারিরা রাতের আঁধারে পাখি ধরার উদ্দেশ্যে বিশাল এ বৃক্ষে মই বানিয়েছে। 

বন বিভাগ সুত্র জানায়, ২০১৬ সালে করা এক জরিপে ময়নাতলীর শতবর্ষী এই চন্ডুল বৃক্ষটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় বৃক্ষ হিসেবে স্থান পায়। সেসময় গাছটির বেড় ছিল ২৮ ফুট। গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ৪৭ মিটার। বর্তমানেও অপরিবর্তিত স্থানেই রয়েছে বৃক্ষটি। এ বৃক্ষের বৈজ্ঞানিক নাম টেট্রামেলস নুডিফ্লোরা।