সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধের সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শাল্লা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান আসামি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ (এসও) পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মো. শওকত আলী গতকাল জেলার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন। স্পেশাল পিটিশনে মামলা নম্বর-৪।
আসামিরা হলেন শাল্লার ইউএনও মো. আবু তালেব, উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ূম, শাল্লার হাবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামের শান্ত কুমার দাশ, দামপুর গ্রামের বকুল আহমেদ ও আনন্দপুর গ্রামের বিপ্লব রায়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলার নতুন বৈশাখালী ভাঙ্গা পর্যন্ত ১৪৬ মিটার ডুবন্ত বাঁধের ভাঙা বন্ধকরণ ও মেরামতের জন্য ২৭নং পিআইসি তৈরি করা হয়। ভাণ্ডাবিল হাওরের উপপ্রকল্পের আওতায় চলতি বছর সে কাজের জন্য ২৪ লাখ ৭৩ হাজার ১০১ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা নিয়ম না মেনে শাল্লার হাবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামের শান্ত কুমার দাশ, দামপুর গ্রামের বকুল আহমেদ ও আনন্দপুর গ্রামের বিপ্লব রায়কে পিআইসির সভাপতি, সদস্য সচিব ও সদস্য করেন। অথচ কাবিটা নীতিমালা ২০১৭-এর নিয়ম অনুযায়ী, বাঁধের পাশে জমি যার পিআইসির দায়িত্ব পাবেন তিনি। পিআইসি কমিটি দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। এদিকে দুই কিস্তির টাকা পরিশোধ এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বাঁধের কাজ শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মো. শওকত আলী বলেন, ‘শাল্লার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শান্ত, বকুল ও বিপ্লবকে পিআইসি দিয়েছেন। অথচ তাদের বাঁধের পাশে কোনো জমি নেই। তাহলে কোন নীতিমালা মেনে তারা তাদের পিআইসি দিলেন? সরকারের এতগুলো টাকা নিয়ে এভাবে নয়ছয় করার এখতিয়ার কারো নেই। তাই আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।’
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার নাগ জানান, মঙ্গলবার সকালে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন।










