গতকাল বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
ইআরডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঠানো চিঠিটির বিষয়ে ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সিডিপির বৈঠকে পর্যালোচনা করা হতে পারে।
ইআরডি সচিব বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময় বাড়াতে জাতিসংঘের সিডিপিতে আমাদের মিশনের মাধ্যমেই একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা পরশুদিন (বুধবার) চিঠিটি দিয়েছি। এটা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেমন উত্তর আসবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার যে প্রস্তুতির সময় পেয়েছিল, তা করোনা মহামারী-পরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন, বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি—সব মিলিয়ে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রিপারেটরি সময়কাল যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলেও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমন্বয় নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা যায়নি।
চিঠিতে উল্লেখ করা বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে—কভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা। আর দেশী সংকটের মধ্যে আর্থিক খাতে অনিয়ম, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় মতো বিষয়গুলোর উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে এলডিসি উত্তরণের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির পরিবর্তন এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্য রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে বাংলাদেশ অতিমাত্রায় তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা হারালে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উন্নয়নের গতি দুর্বল হতে পারে। এ অবস্থায় এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করতে হলে বাংলাদেশের তিন বছরের একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ এবং সম্ভাব্য সময় প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে সময় বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকার গঠন করেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের বিষয়ে সময় নিতে উদ্যোগের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। গত বুধবার দায়িত্ব নেয়ার প্রথমদিন সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায়। এ লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং ইআরডির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে।’









