ঝালকাঠি সদর উপজেলার কাফড়কাঠি গ্রামে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তৈরি হয়নি রাস্তাঘাট। এখনো এ গ্রামের বাসিন্দা সাঁকো পেরিয়েই যাতায়াত করে। তার ওপর বর্ষায় ডুবে থাকে পথঘাট। বর্ষাকালে গ্রামবাসীর চলাচলে একমাত্র ভরসা নৌকা। দুর্ভোগের শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীকে। দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণসহ সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও এ গ্রামে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এখানকার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, কাফড়কাঠি গ্রামে তিন হাজার মানুষের বসবাস, যার প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষিত। কেউ কেউ আবার উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে ভালো চাকরি করছেন। অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমন একটি গ্রামে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও গড়ে ওঠেনি সড়ক যোগাযোগ। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উত্কর্ষের এ যুগে বর্ষা মৌসুমে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতে হয় নৌকা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সীমান্তঘেঁষা এ গ্রামটি পিরোজপুর জেলার কুড়িয়ানা ও বরিশাল জেলার বানারীপাড়ালাগোয়া। গ্রামটিতে পাঁচ শতাধিক পরিবার রয়েছে। শিক্ষা-দীক্ষায়ও এগিয়ে এ গ্রামের বাসিন্দারা। রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অসংখ্য শিক্ষার্থী স্কুলে পড়ছে। পথঘাট না থাকায় বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। আর অসুস্থ রোগী পরিবহনের কথা ভাবাই যায় না। কৃষি ক্ষেত্রে এ গ্রামের মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমজুড়ে পেয়ারা আর আমড়া ছাড়াও ১২ মাস এখানকার অসংখ্য কৃষক শাক-সবজি চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের বাজারগুলোয়ও জোগান দেন। সীমাহীন দুর্ভোগে গ্রামবাসীর ক্ষোভের শেষ নেই।
কাফড়কাঠি গ্রামের কৃষক শংকর মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানে কোনো সড়ক না থাকায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানে উত্পাদিত কৃষিপণ্যের আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।
এ গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক অমরেশ রায় চৌধুরী বলেন, ঝালকাঠি সদর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কাফড়কাঠি গ্রাম। জন্মের পর থেকেই আমরা নৌকায় যাতায়াত করে আসছি। ডিজিটাল যুগেও নৌকায় চলাচল করছি। এলাকার রাস্তাঘাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অসুস্থ রোগীদের গাড়ির বদলে নৌকায় করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, তিনি যেন আমাদের গ্রামটির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
স্থানীয় নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হক আকন্দ গ্রামবাসীর চলাচলে দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এরই মধ্যে এ গ্রামে পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই কাফড়কাঠি গ্রামে সড়ক নির্মাণ করা হবে।










