চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টিতে চলতি মৌসুমে আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি ঝরে পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া আমের গুটি বড়ও হচ্ছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষী ও বাগান মালিকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় আমবাগান রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর। এসব বাগানে আমগাছের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৯৮ ভাগ গাছেই মুকুল এসেছে। চাষীরা এবার আমের উচ্চফলনের প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন তারা।
জানা গেছে, জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ায় আম আবাদের ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় জীবিকায় সংকট দেখা দিতে পারে। সদর উপজেলার মহারাজপুর, নয়াগোলা, কোর্ট এলাকা, শিবগঞ্জ, বিরামপুর মরদানাসহ বেশ কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির অভাবে আমগাছের গুটি ঝরতে শুরু করেছে। গুটিগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর আমগাছে ভালো মুকুল আসার পাশাপাশি গুটিও সময়মতো এসেছে। তবে গত ৯ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। এ মুুহূর্তে বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হবে, না হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। যদিও খরচ বেশি পড়বে, তার পরও আমচাষীদের গাছে পানি দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় বৃষ্টি নেই। সেচের মাধ্যমে গাছ স্প্রে করলে আমের গুটি রক্ষা পাবে।










