কিছুটা শীতল আবহাওয়া থাকলেও রোজার প্রথম দিনই দই কিনতে বিভিন্ন হোটেল ও দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রথম রমজানেই প্রায় ৩০ লাখ টাকার দই বিক্রি হয়েছে।

সারা দিন রোজা পালনের পর টক বা সাদা দই দিয়ে তৈরি পানীয় ও খাবার শরীরে শীতলতা আনে। বিশেষ করে সাদা দইয়ের ঘোল রোজাদারদের কাছে তৃপ্তির খাবার হিসেবে পরিচিত। অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বগুড়ার ইফতারে টক ও সাদা দই একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। দইয়ের পাশাপাশি শরবত ও হালিমের চাহিদাও রয়েছে। তবে ইফতারের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দইয়ের অবস্থান শীর্ষেই।

গতকাল শহরের স্টেশন রোড, সাতমাথা, থানা রোড, কাঁঠালতলা, চেলোপাড়া, নবাববাড়ি রোড, কলোনি, ঠনঠনিয়া, রাজাবাজার এলাকা ও ফতেহ আলী বাজার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ইফতারসামগ্রীর দোকান বসে। দুপুর থেকেই সাধারণ মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে উচ্চমানের হোটেলগুলো ইফতার বিক্রি শুরু করে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের জন্য ইফতার কিনেছেন।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার দইয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। আকারভেদে গত বছর ছোট পাতিল ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় পাতিলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০-২০০ টাকায়। খোলা বাজারে ৫০-২০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন মানের সাদা দই পাওয়া যাচ্ছে।

ঠনঠনিয়া এলাকার দই বিক্রেতা মিলন হাসান জানান, রমজান এলেই সাদা দইয়ের চাহিদা বাড়ে। এবারো চাহিদা ভালো থাকলেও দাম কিছুটা বেশি। তার দোকানে ৩৫০ গ্রাম সাদা দই ৯০-১০০ টাকা ও ৭০০ গ্রাম দই ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ ও শাহী দইয়ের দাম যথাক্রমে ৩০০ ও ৩৫০ টাকা।

চিনিপাতা দই ঘর সূত্রে জানা যায়, টক দইয়ের চাহিদা এত বেশি যে সময়মতো সব ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ পাতিল সাদা দই বিক্রি হয়।

ইফতার কিনতে আসা ক্রেতা মো. সোহাগ হাসান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর ইফতারসামগ্রীর দাম ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার আগে প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়ে যায়।’

আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন, ‘রমজানে টক ও সাদা দইয়ের চাহিদা বেশি থাকে। উপকরণের দাম বাড়লেও ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় রেখে সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। রমজানের প্রথম দিনই ২০০-৩০০ পাতিল সাদা দই বিক্রি হয়েছে।’