ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ড. আমানুর আমান।

তিনি জানান, গত রোববার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে ওই পাঁচ ছাত্রীকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে। সভায় সব সদস্য বিষয়টিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা যেভাবে এসেছে সেভাবেই প্রতিপালন করার বিষয়ে মত দেন।

এর আগে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে রাতভর নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে পরিসংখ্যান বিভাগের সানজিদা চৌধুরী ওরফে অন্তরা, চারুকলা বিভাগের হালিমা আক্তার ঊর্মি, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মিম, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম ও একই বিভাগের মুয়াবিয়া জাহানের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে সানজিদা চৌধুরী ওরফে অন্তরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও অন্যরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে আলোচিত হয়। নির্যাতিত ফুলপরী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলের প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও দেন। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনা তুলে ধরে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসিন। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট গ্রহণ করে এ বিষয়ে ওই আইনজীবীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। যার দুটি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও একটি কমিটি গঠিত হয় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর হাইকোর্ট ১ মার্চ নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা মেনে পাঁচ শিক্ষার্থীকে ১৫ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি ও হাইকোর্ট কর্তৃক গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৭ সালের স্টুডেন্টস কোড অব কন্ডাক্ট আইন অনুযায়ী ১২ মাসের জন্য তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি। এ শাস্তি চলাকালীন তারা ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।