রমজান মাস ঘিরে ঝালকাঠিতে মুড়ি ভাজার ধুম পড়েছে। জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে দিন-রাত মুড়ি ভাজা চলছে। আড়তদাররা জানিয়েছেন, জেলার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন এ গ্রামগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক মণ মুড়ি সরবরাহ করা হয়।

দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠি, জুড়কাঠি, ভরতকাঠি, দপদপিয়া ও রাজাখালি গ্রামগুলো মুড়িপল্লী নামে পরিচিত। জানা যায়, এখানকার ২৫০টি পরিবার যুগ যুগ ধরে মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সুস্বাদু ও মিষ্টি মুড়ি হিসেবে সার দেশে সমাদৃত এখানকার মুড়ি। সব পরিচয় ছাপিয়ে এ গ্রামগুলো মুড়ির গ্রাম নামেই পরিচিতি পেয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রমজানের চাহিদা মেটাতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরা সমানতালে মুড়ি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নাখোচি জাতের ধান প্রক্রিয়াজাত করে এ মুড়ির চাল তৈরি করা হয়। রমজানের বাড়তি চাহিদা এবং কিছু বেশি আয়ের জন্য রাত ৪টা থেকেই শুরু হয় মুড়ি ভাজা, চলে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত।

জানা গেছে, এখানকার মুড়িতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এজন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও খেতে সু-স্বাদু। বর্তমানে ১২০ টাকা দরে প্রতি কেজি মুড়ি খুচরা বিক্রি হয়।

এ ব্যবসায় জড়িত মধ্যস্বত্বভোগীদের ভাগ্য ফিরলেও যারা মুড়ি তৈরি করেন, নিজস্ব পুঁজি না থাকায় তাদের ভাগ্য বদলায় না। নিজস্ব পুঁজি না থাকায় মুড়ির কারিগররা আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন (অগ্রিম টাকা) নিতে বাধ্য হন।

কয়েকজন মুড়ি প্রস্তুতকারী ও মুড়ি ব্যবসায়ীর (আড়তদার) সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মুড়ি ভাজায় জ্বালানি কাঠ ও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ বাদে প্রতি ৫০ কেজি চালের মুড়ি তৈরি করে মজুরি পান মাত্র ৪০০ টাকা। এ অর্থেই চলে তাদের জীবন-জীবিকা  ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ।

তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এখান থেকে মুড়ি নিয়ে যান। বাজারে খুচরা দরে প্রতি কেজি ১২০ টাকা বিক্রি হলেও পাইকারি দর প্রতি কেজি ৯০ টাকা।

বছরের পর বছর মুড়ি ভেজেও শুধু পুঁজির অভাবে ভাগ্য ফেরাতে পারেনি পরিবারগুলো। মুড়ি ভাজাকে কুটির শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, এমনটাই এ শিল্পে জড়িতদের  প্রত্যাশা।

শুধু নলছিটিতেই নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে এ মৌসুমে মুড়ি ভাজার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি মুড়ি ভাজার ঘরেই এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। 

মুড়ি ভাজার সঙ্গে সম্পৃক্ত মিলন হোসেন বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজান এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ মাসে আমাদের ব্যস্ততা থাকে। অন্য সময় বেকার থাকতে হয়। পুঁজির অভাবে আমরা আমাদের ভাগ্য বদলাতে পারিনি। সরকার থেকে আমাদের যদি সুদ ছাড়া ও সহজ শর্তে লোন দেয় তাহলে অনেক উপকার হবে।

দপদপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, বেশকিছু পরিবার মুড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। শুধু এ মৌসুমেই তাদের মুড়ি ভাজার কাজ থাকলেও বাকি সময় তাদের বেকার থাকতে হয়। আমন ধানের ভাজা মুড়ির জন্য নলছিটি বিখ্যাত। দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও এ অঞ্চলের মুড়ি রফতানি হয়।

ঝালকাঠি বিসিক উপব্যবস্থাপক মো. শাফাউল করীম বলেন, এ এলাকা মুড়ির জন্য বিখ্যাত। তাই এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা সমিতি গঠন করে ঋণ নিতে চাইলে তা দেয়া হবে।