রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বঙ্গভবনে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ কথা জানান। খবর বাসস।

সাক্ষাতে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্থায়ী নিজস্ব ভবন প্রাপ্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের স্বীকৃতি এবং গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সনদ বিশেষভাবে সহায়ক।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলের সমস্যা সমাধানে আরো উদ্যোগী হতে বলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য মো. এমদাদুল হক, অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান ও অধ্যাপক ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব, সহকারী সামরিক সচিব ও একান্ত সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও জলবায়ু সহনশীলতাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল দুপুরে বঙ্গভবনে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসোদা মাকসুদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি বিপণন সুবিধা ও মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষা ও কৃষিসহ অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন খাতে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশে এর কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষাসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাংলাদেশে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাদের এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসায় করেন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন।’ গতকাল বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি জারি হওয়া ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শন করে। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম থেকে নবম শ্রেণীর বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ পরিদর্শনে অংশ নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখে। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি গুরুজন ও শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পাশাপাশি সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণে রেখে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বাবা-মা, শিক্ষক ও মুরব্বিদের সবসময় সম্মান করতে হবে। নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, তেমনি জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গভবন শুধু একটি ভবন নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতীক ও ইতিহাসের সাক্ষী।’ ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, সে জন্যই আজ তোমাদের এ পরিদর্শন।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।