প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে ছাদে করে টিকিট ছাড়া ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ কার্যক্রম টানা গত ছয়দিন স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে গতকাল সোমবার (৮ এপ্রিল) রাতে এসে কমলাপুর রেলস্টেশনে কড়াকড়ি ধরে রাখতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রার সপ্তম দিনে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছাদে চেপে ঢাকা ছাড়ছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষজন। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বিলম্ব হয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলগামী একতা এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেসের ট্রেনগুলোর বগিতে তিলধারণের ক্ষমতা না থাকায় যাত্রীদের ছাদে উঠতে দেখা যায়।
সরজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টার পরপরই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে থামে একতা এক্সপ্রেস ট্রেন। সেখানে আগে থেকেই অনেক মানুষকে অপেক্ষা দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা নামার আগেই অপেক্ষমাণ যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে উঠতে শুরু করেন। নামতে না পেরে চাপে পড়ে নারী-শিশুকে চিৎকার ও কান্নাকাটি করতেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার বলেন, ‘শেষ সময়ে পারা যাচ্ছে না। গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি ছিল। আইনের কাছে বাস্তবতা অসহায়, অতিরিক্ত চাপ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সামলাতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর পেরেছি চেষ্টা করেছি।’
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কমলাপুর স্টেশনে কড়াকড়ি হলেও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের বিশৃঙ্খলা অবস্থা রয়েছে। অনেকে টিকিট কেটে নিজের আসনে বসতে পারেননি।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, ‘দু-একটি ট্রেন কিছু সময়ের জন্য দেরি হচ্ছে কিন্তু কোনো শিডিউল বিপর্যয় কিংবা ট্রেন বিলম্বের ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ২০টি ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গিয়েছে।’
অন্যদিকে তিতাস কমিউটার ৯টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও স্টেশন বোর্ডে বিলম্ব সময়ে ছাড়বে বেলা ১টা ১০ মিনিটে।
স্টেশনের ভেতরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যাত্রীরা স্টেশনে বসে অপেক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রার ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় অভিযোগ নেই যাত্রীদের।










