ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়েছে, যা উদ্বেগজনক।
বিভিন্ন বয়সের মানুষ জুয়ায় জড়িয়েছেন, চাকরি থেকে অবসর প্রাপ্তরাও রয়েছেন এই তালিকায়।
অনলাইনের অবৈধ জুয়া ও বেটিং সাইট বন্ধ করতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে এ
রকম ২ হাজার ৬০০ সাইট বন্ধ করা হয়েছে। এসব সাইট পুনরায় চালু হওয়া ঠেকাতে প্রযুক্তি
সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
সোমবার (২৪ জুন) ঢাকায় নিযুক্ত
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুইর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের
সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স
স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে তার দক্ষতার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু
স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ফ্রান্স। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এয়ারবাসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২, অপটিক্যাল স্যাটেলাইট,
এসএআর স্যাটেলাইট এবং বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তির আরো উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সাইবার
নিরাপত্তা, স্টার্টআপ এক্সচেঞ্জ, মহাকাশ প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি
এবং জ্ঞান স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি ফ্রান্সের
এয়ারবাস, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কুল ফরটি টু, ফ্রান্সের ট্রেড মিনিস্টার এবং দেশটির
বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে অনুষ্ঠিত
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যৎমুখী তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি
গড়তে ফ্রান্সের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ জন্য বাংলাদেশ থেকে একটি
প্রতিনিধিদল ফ্রান্স সফর করেছে। ফ্রান্সের
সঙ্গে আমরা নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ-
এ তিনটি বিষয় হচ্ছে আমাদের ফ্রান্স ভিজিটের মূল উদ্দেশ্য। ফ্রান্সের ট্রেড মিনিস্টারের
সঙ্গেও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্স বা ইউরোপের অন্যতম একটি বড় প্রযুক্তি
উৎসব ডিভাটেকে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।
সফরকালে ফ্রান্সের এয়ার বাসের
স্যাটেলাইট তৈরির ল্যাব পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুরে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য ফ্রান্সের
অত্যন্ত সফল একটি উদ্যোগ রয়েছে। সেটি হচ্ছে স্কুল ফরটি-টু। সেটার সঙ্গে আমাদের একটি
সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা তাদেরকে বাংলাদেশে আনতে চাই।
পলক আরো বলেন, স্যাটেলাইট কোম্পানি
এয়ার বাসের পক্ষ থেকে আমাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সক্ষমতা তৈরি করার জন্য কিছু প্রস্তাব
দিয়েছে। আমরা সেটাও বিবেচনায় নিচ্ছি। বাংলাদেশে আমরা যাতে যৌথভাবে স্যাটেলাইট অ্যাসেম্বল
করতে পারি, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারি, এটিও একটি উদ্দেশ্য।
সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্মসচিব
ড. রাশিদা ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।










