লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এর মধ্যেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দৌড়ঝাঁপের শেষ নেই। প্রতিদিনই চলছে অভিযান। নগরবাসীকে করা হচ্ছে জরিমানা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই সিটির নির্মাণাধীন ভবনগুলোই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে ব্যর্থ হচ্ছে মশা নিধন কর্মযজ্ঞ। জরিমানা গুনলেও মশার লার্ভা ধ্বংসে অনীহা দেখা গেছে ভবন মালিকদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসে সারা দেশে ৫৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এর আগে জুনে ২৭২ জন ও মে মাসে ৪৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসের বেশির ভাগ ডেঙ্গুরোগীই রাজধানীর। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর ক্রমবৃদ্ধি প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে দুই সিটির মশা নিধন কার্যক্রমকে। মশা নিধন কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষার মৌসুমে ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে ছাদবাগান, টব, টায়ার ও নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমার সুযোগ পায় বেশি। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বৃষ্টি হলে এসব ভবনের ভেতরে বাইরে আশপাশে নানা জায়গায় পানি জমে থাকে। ভবন মালিকরা পানি অপসারণ না করার কারণে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি।

এদিকে দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্মাণাধীন ভবনে বেশি হওয়ায় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভবন মালিকদেরও জরিমানা করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন অন্তত ১৫০ মামলায় ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন মালিককে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগ পুরো অঞ্চলে জরিপ পরিচালনা করে চার হাজার নির্মাণাধীন ভবন পেয়েছে। এ ভবনগুলোতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বৃদ্ধি ঘটে। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় দিন-রাত আমরা অমানবিক পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনগুলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমাদের এখানেও নির্মাণাধীন ভবন মশা নিধনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের ৮০ শতাংশই দুই সিটির নতুন সংযুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে। ডিএনসিসির ৪০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিজভি হাওলাদার বলেন, আমাদের এলাকা ঢাকা সিটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ভবন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় মশার যন্ত্রণাসহ সব ধরনের ভোগান্তিও বাড়ছে। ডিএসসিসির নতুন ওয়ার্ডগুলো ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। ডিএসসিসির ৬৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, মেগা সিটির বাসিন্দা হওয়ার পর থেকে আমাদের জীবনমানে পরিবর্তনের ছোঁয়া আসতে শুরু করে। পুরনো বাড়ি-ঘর নতুন আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব কারণে নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যা নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বেশি।

গত বছরের ১ জুলাই বাসাবাড়িতে গিয়ে ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল এডিসের লার্ভা ধ্বংস করার অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শুরু করে ডিএসসিসি। ডিএসসিসি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নগরবাসীর জন্য এ সেবা চালু করে। সেবাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সেবামূল্য হিসেবে দিতে হতো। আবেদনের পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ সেবা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। কিন্তু ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, গত এক বছরে একজন ভবন মালিকও অনলাইনে লার্ভা ধ্বংসের আবেদন করেননি। তাই কিছুদিন আগে ওই আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। অনলাইনে আবেদন বন্ধের আগে সিটি করপোরেশন পরীক্ষামূলক আবেদন পেয়েছেন ২০টি। তবে কেউ টাকা জমা দেননি। টাকা জমা না দেয়ায় এ সেবা কাউকে দেয়া হয়নি। ঢাকা দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বললেন, অফলাইনে লার্ভা ধ্বংসে আবেদন নেয়া হয়।